
ঢাকা, ৪ আগস্ট (হি.স.) : উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি ভারত ও বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানালেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। আইসিসিআর (ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশনস) স্কলারশিপপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তোমরাই ভারতে বাংলাদেশের দূত। ভারত সফরের সময় নিজেদের আচরণ, মেধা ও সাফল্যের মাধ্যমে দুই দেশের মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক বিশ্বাস আরও গভীর করে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
মঙ্গলবার ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন প্রাঙ্গণে শিক্ষাবর্ষ ২০২৬-২৭-এর আইসিসিআর স্কলারশিপপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে হাইকমিশনার এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ঢাকা অঞ্চলের ১২০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা প্রকৌশল, চারুকলা, ফার্মাসি, সঙ্গীত-সহ বিভিন্ন বিষয়ে ভারতের খ্যাতনামা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি স্তরে উচ্চশিক্ষার জন্য শিগগিরই ভারতে রওনা হবেন।
দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, আইসিসিআর বৃত্তি কেবল উচ্চশিক্ষার সুযোগ নয়, এটি দুই দেশের সংস্কৃতি, ইতিহাস ও মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ারও এক অনন্য মাধ্যম। তিনি শিক্ষার্থীদের ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত ঘুরে দেখার, নতুন বন্ধুত্ব গড়ে তোলার এবং ভবিষ্যতে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের সেতুবন্ধন হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
এ বছর বাংলাদেশ থেকে আইসিসিআর স্কলারশিপের জন্য ৭ হাজার ৭০০-এরও বেশি আবেদন জমা পড়ে। কঠোর লিখিত পরীক্ষা ও সরাসরি সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে ৫৪১ জন শিক্ষার্থী নির্বাচিত হয়েছেন, যা মোট আবেদনকারীর প্রায় ৬ শতাংশ।
নির্বাচিতদের মধ্যে ৫০০ জন সুবর্ণ জয়ন্তী স্কলারশিপ-এর আওতায় বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল, গণিত, মানবিক ও বাণিজ্য বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করবেন। এছাড়া নৃত্য, সঙ্গীত ও সংস্কৃতিতে ৩৮ জন লতা মঙ্গেশকর স্কলারশিপ পেয়েছেন। আরও তিনজন শিক্ষার্থী স্নাতক পর্যায়ে স্টেম বিষয়ে অধ্যয়নের জন্য আইসিসিআর কোয়াড স্কলারশিপ অর্জন করেছেন।
অনুষ্ঠানে হাইকমিশনার শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, তাঁদের আস্থা ও উৎসাহের কারণেই এই মেধাবী শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাচ্ছেন।
উল্লেখ্য, ভারত সরকারের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সম্পূর্ণ অর্থায়িত শিক্ষা কর্মসূচি আইসিসিআর স্কলারশিপের আওতায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা আইআইটি, এনআইটি, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়, বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, মুম্বাই বিশ্ববিদ্যালয়সহ ভারতের বিভিন্ন শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে পড়াশোনার সুযোগ পান। পাশাপাশি তাঁদের জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহের জন্য মাসিক উপবৃত্তিও প্রদান করা হয়।
হিন্দুস্থান সমাচার / স্নিগ্ধা দাস