বিহারে একে অপরকে বাঁচাতে গিয়ে পাঁচজনের মৃত্যু, মৃতদের চারজনই একই পরিবারের
ভাগলপুর, ১০ সেপ্টেম্বর (হি.স.): গঙ্গার জলস্তর ক্রমাগত বাড়তে থাকায় ভাগলপুর জেলায় বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। বৃহস্পতিবার বাইপাস থানা এলাকার কোয়েলি খুটহা গ্রামে বন্যার গভীর জলে ডুবে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর গোটা গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছা
বিহারে একে অপরকে বাঁচাতে গিয়ে পাঁচজনের মৃত্যু, মৃতদের চারজনই একই পরিবারের


ভাগলপুর, ১০ সেপ্টেম্বর (হি.স.): গঙ্গার জলস্তর ক্রমাগত বাড়তে থাকায় ভাগলপুর জেলায় বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। বৃহস্পতিবার বাইপাস থানা এলাকার কোয়েলি খুটহা গ্রামে বন্যার গভীর জলে ডুবে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর গোটা গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

প্রত্যক্ষদর্শী ও গ্রামবাসীদের বক্তব্য অনুযায়ী, মৃতদের পরিবারের সদস্যরা নিজেদের খেতের দিকে যাচ্ছিলেন। বন্যার জেরে রাস্তা সম্পূর্ণ জলের তলায় চলে গিয়েছিল। সেই সময় পা পিছলে অথবা জলের গভীরতা বুঝতে না পেরে পরিবারের এক সদস্য গভীর জলে চলে গিয়ে ডুবতে থাকেন। তাঁকে বাঁচাতে পরিবারের অন্য সদস্যরাও একে অপরের হাত ধরে জলে নামেন। মুহূর্তের মধ্যে একে অপরকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে গিয়ে পাঁচজনই গভীর জলের স্রোতে তলিয়ে যান।

স্থানীয় গ্রামবাসীরা দ্রুত উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসেন। দীর্ঘ চেষ্টার পর পাঁচজনকেই জল থেকে উদ্ধার করে তড়িঘড়ি মায়াগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে হাসপাতালে পৌঁছতেই চিকিৎসকরা পাঁচজনকেই মৃত ঘোষণা করেন। মৃতদের পরিচয় মঞ্চন দেবী, সোনাক্ষী কুমারী, প্রিন্স কুমার, অভিষেক কুমার এবং অংশু প্রিয়া হিসেবে জানা গিয়েছে।

এই ঘটনায় আরও এক ব্যক্তির অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। মায়াগঞ্জ হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছে। একসঙ্গে পাঁচটি মৃতদেহ হাসপাতালে পৌঁছতেই পরিজনদের কান্নায় গোটা হাসপাতাল চত্বর ভারী হয়ে ওঠে। ঘটনার খবর পেয়ে বাইপাস থানার পুলিশ বাহিনী নিয়ে মায়াগঞ্জ হাসপাতালে পৌঁছয়। পুলিশ মৃতদেহগুলি নিজেদের হেফাজতে নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ শুরু করেছে।

স্থানীয় পঞ্চায়েতের প্রধান এবং থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক মৃতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের সান্ত্বনা দেন। ঘটনায় গ্রামবাসীদের মধ্যে গভীর ক্ষোভ ও শোক দেখা দিয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, রাস্তায় বন্যার জল জমে থাকায় গর্ত ও নালার গভীরতা বোঝা যাচ্ছে না। ফলে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

গ্রামবাসীরা জেলা প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন, জল জমে থাকা সমস্ত বিপজ্জনক জায়গায় দ্রুত ব্যারিকেড দেওয়া, নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন এবং মানুষকে সতর্ক করার জন্য সতর্কতামূলক বোর্ড লাগানোর ব্যবস্থা করা হোক।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande