
কাঠমান্ডু, ১৪ সেপ্টেম্বর (হি.স.): নেপালে সাম্প্রতিক বন্যায় পরিকাঠামো ক্ষেত্রে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সরকারি ভাবে গঠিত দলের ‘রাসুয়া-ভোটেকোশি বন্যা ২০৮৩: দ্রুত ক্ষয়ক্ষতি ও প্রয়োজনীয়তা মূল্যায়ন’ রিপোর্টে এই তথ্য উঠে এসেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, বন্যায় নেপালের পরিকাঠামো ক্ষেত্রে প্রায় ১.৭২ লক্ষ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিকাঠামো পুনর্নির্মাণে প্রায় ৪.৭৩ লক্ষ কোটি টাকার প্রয়োজন হবে।
সোমবার রিপোর্ট অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিদ্যুৎ ক্ষেত্র। জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ও বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনে প্রায় ১৩৪.৬৯ বিলিয়ন নেপালি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এই পরিকাঠামো পুনর্নির্মাণে প্রায় ৩৯০ বিলিয়ন টাকা প্রয়োজন বলে অনুমান করা হয়েছে।
নবায়নযোগ্য শক্তি সংক্রান্ত পরিকাঠামোয় প্রায় ৫৬ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। বন্যায় সড়ক পরিকাঠামোর প্রায় ২২ বিলিয়ন টাকার ক্ষতি হয়েছে। সড়ক পুনর্নির্মাণে ৫৫.১৮ বিলিয়ন টাকার বেশি প্রয়োজন হবে। সেতুতে প্রায় ১১.৩৫ বিলিয়ন টাকার ক্ষতি হয়েছে। সেগুলি পুনর্নির্মাণে প্রায় ১৮.০৬ বিলিয়ন টাকা খরচ হবে বলে অনুমান করা হয়েছে।
দূরসংযোগ ক্ষেত্রে প্রায় ৬২ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এই পরিকাঠামো পুনর্নির্মাণে প্রায় ১ বিলিয়ন টাকা প্রয়োজন হবে। জল সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন পরিকাঠামোয় প্রায় ১.৩৮ বিলিয়ন টাকার ক্ষতি হয়েছে। সেচ পরিকাঠামোয় ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১.৬৪ বিলিয়ন টাকা।
এছাড়া বন্যায় সরকারি ও বেসরকারি বাড়ি, স্কুল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং সাংস্কৃতিক পরিকাঠামোরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এই ক্ষেত্রে প্রায় ৬৭.৮৪ বিলিয়ন নেপালি টাকার ক্ষতি হয়েছে। ওই পরিকাঠামোগুলি পুনর্নির্মাণে প্রায় ১০০ বিলিয়ন টাকা প্রয়োজন হবে বলে রিপোর্টে জানানো হয়েছে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, বন্যায় নেপালে মোট ২৭৪.৪৮ বিলিয়ন নেপালি টাকার সম্পত্তির ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সমস্ত পরিকাঠামো পুনর্নির্মাণে প্রায় ৭২৩.৩১ বিলিয়ন টাকা প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে প্রথম ছয় মাসে জরুরি ত্রাণ ও পুনরুদ্ধার কর্মসূচির জন্য প্রায় ৯ বিলিয়ন টাকা প্রয়োজন হবে। বাকি অর্থ দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন ও পুনর্নির্মাণের কাজে ব্যবহার করা হবে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সুনন্দা দাস