
আগরতলা, ১৬ সেপ্টেম্বর (হি.স.) : দুর্গাপূজার আগে রাজধানীতে এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ নিয়ে অসন্তোষ ক্রমেই বাড়ছে। যোগেন্দ্রনগরস্থিত সরলা গ্যাস এজেন্সিতে তিন দিন ধরে সিলিন্ডার নিতে এসে গ্রাহকদের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একেক দিন একেক ধরনের নির্দেশ দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে বুধবার এজেন্সির সামনে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন গ্রাহকদের একাংশ।
অভিযোগ, মঙ্গলবার গ্রাহকদের জানানো হয়েছিল, সকাল আটটার আগে এজেন্সিতে এসে লাইনে না দাঁড়ালে পরে সিলিন্ডার দেওয়া হবে না। সেই নির্দেশ মেনে বুধবার ভোর থেকেই এজেন্সির সামনে গ্রাহকদের ভিড় জমতে শুরু করে। কেউ কেউ সকাল ছয়টার আগেই এসে লাইনে দাঁড়ান। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর সকাল প্রায় নয়টা নাগাদ এজেন্সি কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেন, বুধবার আর এলপিজি সিলিন্ডার দেওয়া হবে না।
এই ঘোষণার পরই ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে গ্রাহকদের মধ্যে। তাঁদের প্রশ্ন, যদি সিলিন্ডার দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত মজুত না থাকে, তাহলে আগেই তা জানানো হলো না কেন? অনেক গ্রাহকের অভিযোগ, বাড়িঘরের জরুরি কাজ ফেলে ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর এভাবে খালি হাতে ফিরে যেতে হচ্ছে।
ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের বক্তব্য, এজেন্সির গেটে আগেই ‘আজ সিলিন্ডার দেওয়া হবে না’—এমন একটি বিজ্ঞপ্তি ঝুলিয়ে দিলে তাঁরা বাড়ি থেকেই বিষয়টি জানতে পারতেন। সেক্ষেত্রে ভোরে এসে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হতো না। তাঁদের অভিযোগ, তিন দিন ধরেই এজেন্সি কর্তৃপক্ষের তরফে সিলিন্ডার সরবরাহ নিয়ে স্পষ্ট কোনও তথ্য দেওয়া হচ্ছে না। কখন আসতে হবে, কখন সিলিন্ডার দেওয়া হবে—তা নিয়েও গ্রাহকদের একেক সময় একেক রকম কথা বলা হচ্ছে।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কেন সিলিন্ডার দেওয়া হচ্ছে না, তা জানতে চান গ্রাহকরা। এজেন্সি কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়, প্রয়োজনের তুলনায় পর্যাপ্ত সংখ্যক এলপিজি সিলিন্ডার মজুত নেই। বিষয়টি নিয়ে খাদ্য দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য গ্রাহকদের পরামর্শ দেওয়া হয়।
সরলা গ্যাস এজেন্সির জনৈক কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে তুলনামূলকভাবে কম সংখ্যক এলপিজি সিলিন্ডার এজেন্সিতে আসছে। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বুধবার এজেন্সিতে সিলিন্ডারের জন্য মোট ৯৭৬টি বুকিং রয়েছে। অথচ মজুত রয়েছে মাত্র ৩০৬ থেকে ৩৪২টি সিলিন্ডার। ফলে বুকিংয়ের তুলনায় সরবরাহ অনেকটাই কম থাকায় সমস্ত গ্রাহককে সিলিন্ডার দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে দাবি করেন তিনি। কবে নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, তা এই মুহূর্তে নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয় বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।
এদিকে, দুর্গাপূজা সামনে রেখে এলপিজি-র চাহিদা স্বাভাবিকভাবেই বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে সরবরাহ ঘাটতির কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কোথাও কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন গ্রাহকদের একাংশ। যদিও সরলা গ্যাস এজেন্সির পক্ষ থেকে সরবরাহ কমে যাওয়াকেই বর্তমান সমস্যার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, এজেন্সি কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে খাদ্য দফতরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরের কোনও আধিকারিকের প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী বা দফতরের পক্ষ থেকেও সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য সামনে আসেনি।
গ্রাহকদের দাবি, বিষয়টি দ্রুত খতিয়ে দেখে এলপিজি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে হবে। পাশাপাশি, সিলিন্ডার সরবরাহের দিন ও মজুতের পরিমাণ সম্পর্কে গ্রাহকদের আগাম স্পষ্ট তথ্য দেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ