
কৃষ্ণনগর, ১৯ সেপ্টেম্বর (হি. স.) : কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ও সৃষ্টিকে কেন্দ্রে রেখে এক বিশেষ আলোচনাচক্র ও আবৃত্তির আসর অনুষ্ঠিত হলো কৃষ্ণনগরে। শনিবার কৃষ্ণনগর পৌরসভার সার্ধশতবার্ষিকী ভবনে দিনভর আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের মূল বিষয় ছিল—কাজী নজরুল ইসলাম। কবির ৫০তম প্রয়াণবার্ষিকী এবং কৃষ্ণনগরে তাঁর প্রথম পদার্পণের শতবর্ষকে স্মরণীয় করে রাখতেই কথাশিল্প আবৃত্তি চর্চা কেন্দ্রের উদ্যোগে এই বিশেষ উদযাপনের আয়োজন করা হয়।এদিনের অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের ‘দৈনিক খবরের কাগজ’-এর সম্পাদক তথা বিশিষ্ট কথাশিল্পী মোস্তফা কামাল এবং নজরুল-সঙ্গীতশিল্পী তথা ‘ছায়ানট’ (কলকাতা)-র সভাপতি সোমঋতা মল্লিক। বাংলাদেশে ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে আয়োজিত নানা সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মসূচি এবং বর্তমান সময়ে নজরুলচর্চায় সংবাদমাধ্যমের সক্রিয় ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন মোস্তফা কামাল। একই সঙ্গে নতুন বা তরুণ প্রজন্মকে নজরুলের কালজয়ী সৃষ্টির সঙ্গে সুনিবিড়ভাবে যুক্ত করার নানা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের কথাও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে।অন্যান্য আলোচনার মধ্যে সোমঋতা মল্লিকের বক্তৃতার মূল বিষয় ছিল—নজরুল ইসলাম এবং তাঁর প্রিয় শিক্ষক কবি কুমুদরঞ্জন মল্লিকের মধ্যকার আত্মিক সম্পর্ক। আলোচনার সূচনাতেই কুমুদরঞ্জনের রচিত বিখ্যাত পঙক্তি ‘কিশোর তরুণ তেজস্বী নজরুল...’ পাঠ করা হয়।পরবর্তী পর্বে কথাশিল্প বাচিক সংস্থার ছাত্রছাত্রীরা কবি নজরুলের একাধিক জনপ্রিয় কবিতা আবৃত্তি করে উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে। পীতম ভট্টাচার্যের দক্ষ পরিচালনা ও সঞ্চালনায় সমগ্র অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার সাংস্কৃতিক সুসম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে বছরভর নজরুলের অমূল্য সৃষ্টি সাধারণ মানুষের দুয়ারে পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে আয়োজক সংস্থা 'কথাশিল্প'।
হিন্দুস্থান সমাচার / শুভদ্যুতি দত্ত