১৫০ বছরে ‘বন্দেমাতরম’, আজও কোটি ভারতবাসীর প্রেরণা : রাজ্যপাল
আগরতলা, ২৫ সেপ্টেম্বর (হি.স.) : বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘বন্দেমাতরম’ সঙ্গীতের ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে শুক্রবার আগরতলায় বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিদ্যা ভারতী অখিল ভারতীয় শিক্ষা সংস্থার উদ্যোগে ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী টাউনহলে আয়ো
রাজ্যপাল সহ অন্যান্যরা


আগরতলা, ২৫ সেপ্টেম্বর (হি.স.) : বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘বন্দেমাতরম’ সঙ্গীতের ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে শুক্রবার আগরতলায় বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিদ্যা ভারতী অখিল ভারতীয় শিক্ষা সংস্থার উদ্যোগে ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী টাউনহলে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরার রাজ্যপাল ইন্দ্র সেনা রেড্ডি নাল্লু। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত ‘বন্দেমাতরম’ আজও দেশের লক্ষ কোটি মানুষের প্রেরণার উৎস।

দেশজুড়ে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ঐতিহাসিক এই সৃষ্টির ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে বছরব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। ১৮৭৫ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ‘বন্দেমাতরম’ রচনা করেন। পরবর্তীতে এই গান ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হয়ে ওঠে। স্বদেশি আন্দোলনের সময় ‘বন্দেমাতরম’ দেশপ্রেম ও জাতীয় চেতনার অন্যতম প্রধান প্রতীক হিসেবে মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও এই গানকে বৃহত্তর পরিসরে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

এই ঐতিহাসিক গানের গৌরব ও মর্যাদা অটুট রেখে ১৫০ বছরে পদার্পণ উপলক্ষ্যে দেশজুড়ে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে শুক্রবার আগরতলায় বিদ্যা ভারতী অখিল ভারতীয় শিক্ষা সংস্থার উদ্যোগে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নাল্লু বলেন, ‘বন্দেমাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি একটি ঐতিহাসিক উপলক্ষ। তাঁর কথায়, এই গান ভারতমাতার মূল মন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত এবং আজও দেশের লক্ষ কোটি ভারতবাসীকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ‘বন্দেমাতরম’ দেশপ্রেম, জাতীয় চেতনা ও মাতৃভূমির প্রতি শ্রদ্ধার বার্তা বহন করে আসছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে আগরতলা শহরের বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা সমবেতভাবে ‘বন্দেমাতরম’ গান পরিবেশন করে। ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্যান্য অতিথি ও অংশগ্রহণকারীরাও কন্ঠ মেলান। সমবেত কন্ঠে ‘বন্দেমাতরম’ পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

১৫০ বছর পেরিয়েও ‘বন্দেমাতরম’-এর আবেদন ও প্রাসঙ্গিকতা অটুট রয়েছে—এমন বার্তাই উঠে আসে এদিনের অনুষ্ঠানে। ঐতিহাসিক এই গানের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা স্বাধীনতা সংগ্রাম, দেশপ্রেম ও জাতীয় চেতনার স্মৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande