
আগরতলা, ২৫ সেপ্টেম্বর (হি.স.) : মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে কংগ্রেসের প্রতিবাদ কর্মসূচির অংশ হিসেবে শুক্রবার আগরতলায় বিক্ষোভ দেখাল প্রদেশ কংগ্রেস। গণতন্ত্র হত্যার অভিযোগ তুলে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে নির্বাচন দফতরের সামনে তাঁর কুশপুতুল দাহ করেন কংগ্রেস নেতা-কর্মীরা। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধেও স্লোগান দেন বিক্ষোভকারীরা।
সর্বভারতীয় কংগ্রেসের নির্দেশে শুক্রবার দেশের বিভিন্ন প্রদেশের পাশাপাশি ত্রিপুরাতেও এই কর্মসূচি পালন করা হয়। এদিন প্রদেশ কংগ্রেসের নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা মিছিল করে আগরতলায় নির্বাচন দফতরের সামনে পৌঁছেন। সেখানে বিক্ষোভ প্রদর্শনের পাশাপাশি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কুশপুতুল দাহ করা হয়।
কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশীষ কুমার সাহা এবং কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য তথা বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন। বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সুদীপ রায় বর্মন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র হত্যা এবং দেশদ্রোহিতার অভিযোগ তোলেন।
তিনি বলেন, অবিলম্বে জ্ঞানেশ কুমারকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠাতে হবে। অন্যথায় নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ এবং জ্ঞানেশ কুমারকে সরানোর দাবিতে কংগ্রেস আরও বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে। এই আন্দোলনে দেশের সাধারণ মানুষও সামিল হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে বলে জানা গেছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শৈলেন্দ্র মণি ত্রিপাঠী এই মামলা দায়ের করেছেন। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশনের একাধিক সিদ্ধান্তকে ওই আবেদনে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিশেষ করে ভোটার তালিকা সংশোধন এবং নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক বিভিন্ন সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে আবেদনে। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগের তদন্তের জন্য স্বাধীন তদন্তের দাবিও জানানো হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এই সমস্ত বিষয় বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন এবং সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত রায় এখনও আসেনি।
অন্যদিকে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীও সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন। ফলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপ ও আইনি চ্যালেঞ্জ—দুই ক্ষেত্রেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ