
নয়াদিল্লি, ২৮ সেপ্টেম্বর (হি.স.) : দেশজুড়ে সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইকে নতুন মাত্রা দিতে জাতীয় সন্ত্রাসবিরোধী নীতি ও কৌশল ‘প্রহার’-কে সরাসরি থানা স্তর পর্যন্ত সম্প্রসারিত করার আহ্বান জানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। একই সঙ্গে গত কয়েক বছরের সন্ত্রাসী ঘটনা বিশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করে আগামী ১০ বছরের জন্য একটি অত্যন্ত সুদৃঢ় ও আধুনিক সন্ত্রাসবিরোধী ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তিনি।
সোমবার নতুন দিল্লিতে ‘প্রহার— সন্ত্রাসবিরোধী নীতি ও কৌশল’ শীর্ষক এক উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনের উদ্বোধন করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাস দমনে গঠিত প্রতিটি ব্যবস্থার সাথে ‘অটোমেটেড রেসপন্স সিস্টেম’ যুক্ত করতে হবে। অভিযান পরিচালনায় কোনো ধরনের বিলম্ব এড়াতে এবং সময়মতো কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ সুনিশ্চিত করতে সমস্ত কেন্দ্রীয় ও রাজ্য এজেন্সিগুলির মধ্যে নিখুঁত সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা ব্যক্ত করেন তিনি।
উল্লেখ্য, 'প্রহার' হলো ভারতের জাতীয় সন্ত্রাসবিরোধী নীতি ও কৌশলের এক সমন্বিত রূপরেখা, যা চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক প্রকাশ্যে এনেছিল। এর মূল লক্ষ্য হলো— যেকোনো সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলা আগেই নস্যাৎ করা, যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ও কার্যকর প্রতিক্রিয়া জানানো, রাজ্য ও কেন্দ্রীয় শক্তিগুলির সামর্থ্যকে একসূত্রে বাঁধা এবং সন্ত্রাসবাদের অর্থায়ন, অস্ত্র সরবরাহ ও নিরাপদ ঘাঁটি সম্পূর্ণ ধ্বংস করা।
এই নীতি মূলত সাতটি স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত— প্রতিরোধ, তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা, অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বৃদ্ধি, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, সন্ত্রাসবাদী মনোভাব তৈরি হওয়ার ক্ষেত্রগুলি নির্মূল করা, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির সঙ্গে সহযোগিতা এবং সমগ্র সমাজের অংশগ্রহণে পুনর্বাসন সুনিশ্চিত করা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নির্দেশ দেন, এই প্রতিটি স্তম্ভেই স্পষ্ট ফলাফলভিত্তিক লক্ষ্য নিয়ে কাজ করতে হবে। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে কেন্দ্র সরকার সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে 'জিরো টলারেন্স' নীতিতে অবিচল।
এই সম্মেলন থেকেই একটি নতুন 'প্রত্যর্পণ পোর্টাল' -এর শুভ সূচনা করেন অমিত শাহ। তিনি জানান, এই পোর্টালের মাধ্যমে বিদেশে আত্মগোপন করে থাকা অপরাধী ও সন্ত্রাসবাদীদের দ্রুত ভারতে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। রাজ্য পুলিশ বাহিনীগুলিকে কেন্দ্র সরকারের এজেন্সিগুলির সাথে সমন্বয় রেখে কাজ করার জন্য বিশেষ দল গঠনের নির্দেশ দেন তিনি।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান, ২০১৯ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে বিভিন্ন ৩৬টি দেশ থেকে মোট ২৮৮ জন পলাতক অপরাধীকে সফলভাবে ভারতে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া, সংস্থাগুলির পারস্পরিক সহযোগিতার ফলে সীমান্ত পার থেকে অস্ত্র, বিস্ফোরক ও মাদক পাচারে লিপ্ত 'শাহজাদ ভাট্টি নেটওয়ার্ক'-এর ৪০টিরও বেশি মডিউল ধ্বংস করা হয়েছে। এই সূত্রে ১৫টি রাজ্যে ১০০টিরও বেশি মামলা রুজু করে প্রায় ৩৫০ জন অপরাধীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
উক্ত সম্মেলনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব, বিদেশ সচিব, কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী ও পুলিশ সংস্থাগুলির প্রধান, ১৫টি রাজ্যের ডিজি এবং সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সন্ত্রাসবিরোধী স্কোয়াডের প্রধানরা সরাসরি উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া অন্যান্য রাজ্যগুলির শীর্ষ পুলিশ কর্তারা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি