
পারাদ্বীপ (ওড়িশা), ২৮ সেপ্টেম্বর (হি.স.): ওড়িশার পারাদ্বীপ উপকূলের কাছে মাঝসমুদ্রে ভয়াবহ এক বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা পেল ৯ হাজার মেট্রিক টন পাম তেল ও ২৩ জন ক্রু সদস্য বোঝাই একটি বিদেশি রাসায়নিক ট্যাঙ্কার। ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনীর তৎপরতায় দ্রুত অভিযান চালিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জাহাজটিকে ডুবে যাওয়া থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বেলিজের পতাকাবাহী ‘এমটি সিগাল ৯’ নামের ওই ট্যাঙ্কারটি পারাদ্বীপ উপকূল থেকে প্রায় ৩৭ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অবস্থান করছিল। ২৭ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে সাতটা নাগাদ জাহাজটির মূল ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায় এবং ব্যালাস্ট ট্যাঙ্কে হু-হু করে নোনা জল ঢুকতে শুরু করে। অতিরিক্ত জল প্রবেশের ফলে জাহাজটি বিপজ্জনকভাবে একপাশে কাত হয়ে সমুদ্রগর্ভে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় পড়ে। বিপদের আঁচ পেয়েই জাহাজটির পক্ষ থেকে এসওএস বা জরুরি বিপদবার্তা পাঠানো হয়।
বার্তা পাওয়ামাত্রই কালবিলম্ব না করে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয় উপকূলরক্ষী বাহিনীর নজরদারি জাহাজ ‘আইসিজিএস বিশ্বস্ত’-কে। উদ্ভূত প্রতিকূল পরিস্থিতিতে জাহাজে নামেন উপকূলরক্ষী বাহিনীর বিশেষ ড্যামেজ কন্ট্রোল দলের সদস্যরা। সাবমার্সিবল পাম্প ও আধুনিক সরঞ্জাম ব্যবহার করে তাঁরা অতি দ্রুত জল নিষ্কাশন শুরু করেন। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত দুটি পাইপলাইন মেরামত করে জল ঢোকা বন্ধ করা হয় এবং আরও একটি ফাটল ধরা লাইন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। পাশাপাশি জাহাজের ভারসাম্য ফেরাতে তেল ও জল স্থানান্তরের জটিল প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়।
সমুদ্রে সম্ভাব্য দূষণ রোধে ভুবনেশ্বর থেকে ডরনিয়ার যুদ্ধবিমান উড়িয়ে আকাশপথে নজরদারি চালানো হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে জাহাজটির কাছে সমুদ্রের জলে তেলের যে হালকা আস্তরণ লক্ষ্য করা গিয়েছিল, তা ২৮ সেপ্টেম্বর পুরোপুরি মিলিয়ে গিয়েছে বলে আকাশপথে নিশ্চিত করা হয়েছে। এ ছাড়া দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও পরিস্থিতির সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের জন্য আরও দুটি বিশেষ টহলদারি জাহাজ মোতায়েন রেখেছে উপকূলরক্ষী বাহিনী।
পরবর্তী পদক্ষেপে পারাদ্বীপ বন্দর কর্তৃপক্ষের উদ্ধারকারী টাগবোট ‘ডলফিন’-এর সাহায্যে স্থিতিশীল হওয়া জাহাজটিকে নিরাপদে টেনে পারাদ্বীপের নোঙ্গর এলাকায় নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে উপকূলরক্ষী বাহিনীর প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতায় ট্যাঙ্কারটির বিকল ইঞ্জিন মেরামতের কাজ চলছে এবং দুর্ঘটনাগ্রস্ত জাহাজের নিরাপত্তারক্ষায় নজরদারি অব্যাহত রেখেছে আইসিজিএস আশ্বস্ত।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সংবাদ