
তেহরান, ১১ জানুয়ারি (হি.স.): ইরানে লাগাতার মূল্যবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে শুরু হওয়া গণবিক্ষোভ ক্রমশ রক্তক্ষয়ী রূপ নিচ্ছে। গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এই আন্দোলনে নিরাপত্তা বাহিনী ও সাধারণ নাগরিকদের সংঘর্ষে বহু মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আজকের পরিস্থিতিতে রাজধানী তেহরান-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শহরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে এবং বিভিন্ন এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
ইরান সরকার দাবি করেছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এই বিক্ষোভে বিদেশি শক্তির উসকানির অভিযোগ তুলেছে প্রশাসন। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে হতাহতের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। বেসরকারি সূত্রের দাবি, বিগত ৪৮ ঘণ্টায় ইরানজুড়ে কমপক্ষে দু’হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তেহরান, কারাজ, রশত, ইলাম ও কেরমানশাহ-সহ একাধিক প্রদেশে ক্রমশ ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছে। বহু এলাকায় সরকারি ভবন ও যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় গত ৮ জানুয়ারি থেকে দেশে ইন্টারনেট পরিষেবা কার্যত বন্ধ রয়েছে।
এই অস্থিরতার মধ্যেই সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই বিক্ষোভকারীদের ‘দাঙ্গাবাজ’ ও ‘বিদেশি শক্তির মদতপুষ্ট’ বলে আখ্যা দেওয়ায় জনরোষ আরও তীব্র হয়েছে। সরকারি টেলিভিশনে তাঁর ভাষণের মাধ্যমে আন্দোলন কঠোরভাবে দমন করার বার্তা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অভিভাবকদের সতর্ক করে বলা হয়েছে, সন্তানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাইলে তাদের রাস্তায় নামতে না দেওয়ার জন্য।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বিক্ষোভে খামেনেইয়ের বিরুদ্ধে সরাসরি ক্ষোভ প্রকাশ এবং ইরানি বিপ্লবী শাসনের বিভিন্ন প্রতীকের উপর আক্রমণের ঘটনাও সামনে এসেছে, যা দেশটির রাজনৈতিক ইতিহাসে বিরল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকট, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার প্রভাব ও ক্রমবর্ধমান বেকারত্বই এই বিক্ষোভের মূল কারণ। খাদ্য ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি তাৎক্ষণিক অনুঘটক হলেও, এর নেপথ্যে দীর্ঘদিনের গভীর রাজনৈতিক অসন্তোষ কাজ করছে।
এদিকে, ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জনগণের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে মন্তব্য করায় তেহরান-ওয়াশিংটন সম্পর্ক নতুন করে উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই অস্থিরতা শুধু ইরানের অভ্যন্তরীণ সংকটেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য