




- রবিবার কলিয়াবরে ভূমিপূজন করবেন ৬,৯৫০ কোটির বেশি টাকার প্রস্তাবিত কাজিরঙা এলিভেটেড করিডর প্রকল্পের
গুয়াহাটি, ১৭ জানুয়ারি (হি.স.) : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আগমনের প্রহর গুণছেন অসমবাসী। দেশের প্রধানমন্ত্রী দুদিনের সফরসূচি নিয়ে আসছেন অসমে। আজ শনিবার এবং আগামীকাল রবিবার (১৭ এবং ১৮ জানুয়ারি) বিভিন্ন কার্যসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন প্রধানমন্ত্রী।
আজ সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটা নাগাদ গুয়াহাটির লোকপ্রিয় গোপীনাথ বরদলৈ বিমানবন্দরে অবতরণ করে প্রধানমন্ত্রী সোজা চলে যাবেন সরুসজাই স্টেডিয়ামে। যাত্ৰাপথে তাঁকে উষ্ণ অভ্যৰ্থনা জানাবেন বিভিন্ন জাতি-জনগোষ্ঠীর শিল্পী ও সাধারণ মানুষ। সরুসজাই স্টেডিয়ামে সন্ধ্যারাত ০৬:০০টায় উপভোগ করবেন বড়ো জনগোষ্ঠীর সমৃদ্ধ ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান প্রায় দশ হাজার শিল্পীর সম্মিলিত ‘বাগুরুম্বা দহৌ’ নৃত্য পরিবেশন। ‘বাগুরুম্বা দহৌ’-এ রাজ্যের ২৩টি জেলার ৮১টি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে নৃত্য, সংগীত এবং বাদ্যশিল্পীরা তাঁদের সর্বোত্তম রঙিন কলা পরিবেশন করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঐতিহাসিক ক্ষণের সাক্ষী হতে থাকবেন রাজ্যপাল লক্ষ্মণপ্রসাদ আচার্য, মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা, দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়াল ও পবিত্র মার্ঘেরিটা (প্রতিমন্ত্রী), অসম বিধানসভার অধ্যক্ষ বিশ্বজিৎ দৈমারি, বিটিসি-প্রধান হাগ্রামা মহিলারি, রাজ্যের সাংস্কৃতিক পরিক্রমা দফতরের মন্ত্রী বিমল বরা প্রমুখ বহুজন।
এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, প্রকৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ‘বাগুরুম্বা দহৌ’ বড়ো জনগোষ্ঠীর অন্যতম প্রধান লোকনৃত্য। এই নৃত্যে প্রতীকীভাবে ফুটে ওঠে প্রস্ফুটিত ফুলের রূপ। পাশাপাশি মানবজীবন ও প্রকৃতির মধ্যে পারস্পরিক সামঞ্জস্যের প্রতিফলন দেখা যায় এই নৃত্যকলায়।
পরম্পরাগতভাবে পুরুষ বাদ্যযন্ত্রীদের সঙ্গে বড়ো যুবতীরা এই নৃত্য পরিবেশন করেন। নৃত্যের মৃদু ও প্রবাহিত অঙ্গভঙ্গিতে প্রজাপতি, পাখি, পাতা ও ফুলের আকৃতি ফুটে ওঠে। সাধারণত বৃত্তাকারে বা সারিবদ্ধভাবে দলগতভাবে এই নৃত্য পরিবেশিত হয়, যা দৃশ্যমান সৌন্দর্য বাড়িয়ে তুলে।
বাগুরুম্বা নৃত্য বড়ো জনগোষ্ঠীর কাছে গভীর সাংস্কৃতিক তাৎপর্য বহন করে। এটি শান্তি, উর্বরতা, আনন্দ ও সামাজিক সম্প্রীতির প্রতীক এবং বড়ো নববর্ষ বৈসাগু ও ডোমাচি উৎসবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত।
এদিকে আজ রাত গুয়াহাটিতে কাটিয়ে আগামীকাল রবিবার (১৮ জানুয়ারি) সকাল প্রায় ১১টায় নগাঁও জেলার অন্তর্গত কলিয়াবরে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। কলিয়াবরে ৬,৯৫০ কোটির বেশি টাকা ব্যয়ে প্রস্তাবিত নির্মীয়মাণ কাজিরঙা এলিভেটেড করিডর প্রকল্পের ভূমিপূজন এবং দুটি নতুন ‘অমৃত ভারত এক্সপ্রেস’ ট্রেনের শুভ সূচনা করবেন তিনি।
প্রস্তাবিত কাজিরঙা এলিভেটেড করিডর প্রকল্পের বলে ৭১৫ নম্বর জাতীয় সড়ক কলিয়াবর-নুমলিগড় অংশকে চার লেনে উন্নীত করা হবে। ৮৬ কিলোমিটার দীর্ঘ কাজিরঙা এলিভেটেড করিডর প্রকল্পটি একটি পরিবেশ-সচেতন জাতীয় সড়ক প্রকল্প। এর অন্তর্ভুক্ত হবে কাজিরঙা জাতীয় উদ্যানের বুক চিরে ধাবিত ৩৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড বন্যপ্রাণী করিডর, ২১ কিলোমিটার বাইপাস শাখা এবং ৭১৫ নম্বর জাতীয় সড়কের ৩০ কিলোমিটার অংশকে দুই লেন থেকে চার লেনে উন্নীতকরণ।
এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য, কাজিরঙা জাতীয় উদ্যানের সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি আঞ্চলিক সংযোগ-ব্যবস্থার উন্নয়ন। প্রকল্পটি নগাঁও, কারবি আংলং এবং গোলাঘাট জেলা অতিক্রম করবে। এর ফলে আপার আসাম, বিশেষ করে ডিব্রুগড় ও তিনসুকিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে। এলিভেটেড বন্যপ্রাণী করিডর প্রাণীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করবে এবং মানুষ-বন্যপ্রাণী সংঘাত কমাতে সহায়তা করবে। এছাড়া, এই করিডর পথ নিরাপত্তা বৃদ্ধি করবে, ভ্রমণের সময় ও দুর্ঘটনার হার কমাবে এবং বর্ধিত যাতায়াত ও পণ্য পরিবহণে সহায়তা করবে।
প্রকল্পের অধীনে জখলাবন্ধা ও বোকাখাত বাইপাস নির্মাণ করা হবে, যা শহরাঞ্চলের যানজট কমাবে, শহরে চলাচল ব্যবস্থার উন্নতি ঘটাবে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনমান উন্নত করতে সহায়ক হবে।
সরকারি সূত্রে প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচির এ সব খবর দিয়ে জানানো হয়েছে, এই কর্মসূচির অধীনে প্রধানমন্ত্রী আরও দুটি নতুন অমৃত ভারত এক্সপ্রেস ট্রেনের শুভ উদ্বোধন করবেন। এগুলি গুয়াহাটি (কামাখ্যা)-রোহতক অমৃত ভারত এক্সপ্রেস, ডিব্রুগড়-লখনউ (গোমতী নগর) অমৃত ভারত এক্সপ্রেস। এই নতুন রেল পরিষেবাগুলি উত্তরপূর্ব ভারত এবং উত্তর ভারতের মধ্যে রেল সংযোগ আরও শক্তিশালী করবে। ফলে সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ ও অধিক সুবিধাজনক ভ্রমণ সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে সরকারি সূত্র।এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, গত ২০ ডিসেম্বর (২০২৫) দুদিনের অসম সফরে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেবার তিনি উজান অসমের ডিব্রুগড় জেলার অন্তর্গত নামরূপে ১০,৬০১ কোটি টাকা ব্যয়সাপেক্ষে প্রস্তাবিত ১২.৭ লক্ষ মেট্রিক টন ক্ষমতাসম্পন্ন ব্রাউনফিল্ড অ্যামোনিয়া-ইউরিয়া সার উৎপাদন প্ল্যান্টের শিলান্যাস সহ কয়েকটি কার্যসূচিতে অংশগ্রহণ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস