



কলিয়াবর (অসম), ১৮ জানুয়ারি (হি.স.) : অসমের নগাঁও জেলার অন্তর্গত কলিয়াবরে বোতাম টিপে ৬,৯৫০ কোটির বেশি টাকা ব্যয়ে প্রস্তাবিত নির্মীয়মাণ কাজিরঙা এলিভেটেড করিডর প্রকল্পের শিলান্যাস এবং দুটি নতুন ‘অমৃত ভারত এক্সপ্রেস’ ট্রেনের শুভ সূচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। গুরুত্বপূর্ণ কাজিরঙা এলিভেটেড করিডর প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো বন্যপ্রাণীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা এবং একই সঙ্গে আঞ্চলিক সংযোগব্যবস্থা আরও উন্নত করা।
প্রস্তাবিত কাজিরঙা এলিভেটেড করিডর প্রকল্পের বলে ৭১৫ নম্বর জাতীয় সড়ক কলিয়াবর-নুমলিগড় অংশকে চার লেনে উন্নীত করা হবে। ৮৬ কিলোমিটার দীর্ঘ কাজিরঙা এলিভেটেড করিডর প্রকল্পটি একটি পরিবেশ-বান্ধব জাতীয় সড়ক প্রকল্প। এর অন্তর্ভুক্ত হবে কাজিরঙা জাতীয় উদ্যানের বুক চিরে ধাবিত ৩৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড বন্যপ্রাণী করিডর, ২১ কিলোমিটার বাইপাস শাখা এবং ৭১৫ নম্বর জাতীয় সড়কের ৩০ কিলোমিটার অংশকে দুই লেন থেকে চার লেনে উন্নীতকরণ।
এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য, কাজিরঙা জাতীয় উদ্যানের সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি আঞ্চলিক সংযোগ-ব্যবস্থার উন্নয়ন। প্রকল্পটি নগাঁও, কারবি আংলং এবং গোলাঘাট জেলা অতিক্রম করবে। এর ফলে আপার আসাম, বিশেষ করে ডিব্রুগড় ও তিনসুকিয়া, এমন-কি পার্শ্ববর্তী অরুণাচল প্রদেশের সঙ্গে যোগাযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে। এলিভেটেড বন্যপ্রাণী করিডর প্রাণীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করবে এবং মানুষ-বন্যপ্রাণী সংঘাত কমাতে সহায়তা করবে। এছাড়া, এই করিডর পথ নিরাপত্তা বৃদ্ধি করবে, ভ্রমণের সময় ও দুর্ঘটনার হার কমাবে এবং বর্ধিত যাতায়াত ও পণ্য পরিবহণে সহায়তা করবে।
প্রকল্পের অধীনে জখলাবন্ধা ও বোকাখাত বাইপাস নির্মাণ করা হবে, যা শহরাঞ্চলের যানজট কমাবে, শহরে চলাচল ব্যবস্থার উন্নতি ঘটাবে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনমান উন্নত করতে সহায়ক হবে।
জানা গেছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা এবং ওয়াইল্ডলাইফ ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া-র সুপারিশ মেনে এই প্রকল্পের নকশা তৈরি করা হয়েছে। বিশেষ করে বর্ষাকালে বন্যার সময় কাজিরঙা জাতীয় উদ্যান থেকে কারবি আংলং পাহাড়ের দিকে বন্যপ্রাণীদের নিরাপদে চলাচলের জন্য এলিভেটেড করিডরের নীচে আলাদা সড়কর ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
এই ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে ন্যাশনাল হাইওয়েজ অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেড (এনএইচআইডিসিএল)। এনএইচআইডিসিএল সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রকের অধীন। প্রকল্পটি আগামী ৩৬ মাসের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা। এর আগে মন্ত্রিসভার অর্থনৈতিক বিষয়ক কমিটি ৮৬.৬৭৫ কিলোমিটার রাস্তা চার লেনে উন্নীতকরণ এবং ৩৪.৫ কিলোমিটার এলিভেটেড করিডরের অনুমোদন দিয়েছিল।
প্রসঙ্গত, এর আগে আজ সকালে প্রধানমন্ত্রী তাঁর এক্স হ্যান্ডলে এক পোস্টে লিখেছেন, ‘আজ অসমের কলিয়াবরে গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নমূলক প্রকল্পের ভূমি পূজন করতে আসছি, যার মধ্যে কাজিরঙার ওপর দিয়ে ৩৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড করিডরও রয়েছে। বিশেষ করে বর্ষাকালে এটি বন্যপ্রাণীদের সুরক্ষায় বড় ভূমিকা নেবে।’
এদিকে এই পোস্টের জবাবে অসমের মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা লিখেছেন, ‘এলিভেটেড করিডরটি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ, যা একই সঙ্গে রাজ্যের যোগাযোগ ব্যবস্থাকেও শক্তিশালী করবে।’
এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, কাজিরঙা জাতীয় উদ্যান ও টাইগার রিজার্ভ তার অনন্য জীববৈচিত্র্যের জন্য বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত। এখানে বিশ্বের সর্বাধিক সংখ্যক একশৃঙ্গ গণ্ডারের বসবাস। এছাড়া রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার, হাতি, বুনো মহিষ ও সোয়াম্প হরিণের বড় সংখ্যা রয়েছে কাজিরঙায়। ব্রহ্মপুত্রের প্লাবণভূমিতে বিস্তৃত এই অরণ্যে ঘাসভূমি, বনাঞ্চল ও জলাভূমির অপূর্ব সমন্বয় দৃশ্যমান।
আন্যদিক আজ একই মঞ্চ থেকে আরও দুটি নতুন অমৃত ভারত এক্সপ্রেস ট্রেনের শুভ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। নতুন অমৃত ভারত এক্সপ্রেস দুটি গুয়াহাটি (কামাখ্যা)-রোহতক এবং ডিব্রুগড়-লখনউ (গোমতী নগর)-এর মধ্যে চলাচল করবে। এই নতুন রেল পরিষেবাগুলি উত্তরপূর্ব ভারত এবং উত্তর ভারতের মধ্যে রেল সংযোগ আরও শক্তিশালী করবে। ফলে সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ ও অধিক সুবিধাজনক ভ্রমণ সম্ভব হবে বলে, জানিয়েছে সরকারি সূত্র।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে ছিলেন অসমের রাজ্যপাল লক্ষ্মণপ্রসাদ আচার্য, মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা, দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়াল ও পবিত্র মার্ঘেরিটা (প্রতিমন্ত্রী), রাজ্যের প্রায় সব মন্ত্রী-বিধায়ক, রেলওয়ে ও জাতীয় মহাসড়ক কর্তৃপক্ষের উচ্চপদস্থ আধিকারিক, সরকারি শীর্ষ আধিকারিক সহ বিজেপির বিভিন্ন পদমর্যাদার নেতা-কার্যকর্তা এবং সমর্থক।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস