
জলপাইগুড়ি, ২ জানুয়ারি (হি.স.) : ডুয়ার্সের চা বাগানের রাস্তায় চলন্ত বাইকে ঝাঁপিয়ে পড়ল পূর্ণবয়স্ক এক চিতাবাঘ। চা বাগানের নিস্তব্ধ রাস্তায় চিতাবাঘের মরণকামড় থেকে শেষমেশ সাহসিকতার জোরে প্রাণে বাঁচলেন পেশায় ক্ষৌরকার সঞ্জয় ঠাকুর।
বৃহস্পতিবার রাতে বড়দিঘি চা বাগান থেকে বাতাবাড়ি ফার্ম বাজারের দিকে বাইক চালিয়ে আসছিলেন সঞ্জয়বাবু। চা বাগানের মধ্য দিয়ে যাওয়া নির্জন রাস্তায় বাইকের গতি ছিল বেশ ধীর। আক্রান্ত যুবকের বয়ান অনুযায়ী, হঠাৎ করেই ঝোপের আড়াল থেকে একটি বড় চিতাবাঘ তাঁর চলন্ত বাইকের ওপর আক্রমণ করে। চিতাবাঘটি যখন তাঁর গায়ের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ার চেষ্টা করে, তখন তিনি চলন্ত বাইক থেকেই বাঁ পা দিয়ে সজোরে চিতাটিকে লাথি মারেন। পালটা কামড় বসানোর চেষ্টা করে চিতাবাঘটিও। তবে এরপরেই চিতাবাঘটি ফের চা বাগানের ঝোপে গা ঢাকা দেয়।
পায়ে গুরুতর আঘাত নিয়ে কোনওক্রমে বাতাবাড়ি ফার্ম বাজারে পৌঁছন সঞ্জয়। সেখানে শিক্ষক পারসরাম মাহালি তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখে দ্রুত নিজের বাইকে করে চালসার মঙ্গলবাড়ি গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সঞ্জয়ের পায়ে চিতাবাঘের নখের ক্ষত তৈরি হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং বাগানের অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হয়।
ঘটনা প্রসঙ্গে সঞ্জয় ঠাকুর বলেন, “বহু বছর ধরে এই রাস্তায় যাতায়াত করছি, কিন্তু এমন অভিজ্ঞতা আগে কখনও হয়নি। স্রেফ ভাগ্য আর তাৎক্ষণিক বুদ্ধির জোরে বেঁচে ফিরেছি।” উল্লেখ্য, বড়দিঘি চা বাগান এলাকায় চিতাবাঘের উপদ্রব নতুন নয়। এর আগেও চা পাতা তোলার সময় শ্রমিকরা আক্রান্ত হয়েছেন। ঘটনায় সমগ্র এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। বন দফতরের কাছে খাঁচা পাতার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি