
হাজারিবাগ, ২ জানুয়ারি (হি.স.): ঝাড়খণ্ডের হাজারিবাগের লোকনায়ক জয়প্রকাশ নারায়ণ কেন্দ্রীয় কারাগার (জেপি জেল) থেকে তিন বন্দি পালিয়ে যাওয়ার ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় কেটে গেলেও এখনও তাদের কোনও সন্ধান পায়নি পুলিশ। ঝাড়খণ্ড এর অন্যতম সুরক্ষিত এই কারাগার থেকে বন্দি পালানোর ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
শুক্রবার জেল সুপারিন্টেনডেন্ট জানান, ব্যারাক নম্বর ৬-এর ওয়ার্ড নম্বর ৪-এর জানলার গ্রিল কেটে বুধবার রাত আনুমানিক ১টা ৩৬ মিনিট থেকে ২টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে তিন বন্দি পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় লোহসিংঘানা থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হাজারিবাগ এসপির নির্দেশে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (এস আই টি) গঠন করা হয়েছে। পাঁচটি পৃথক দল রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছে। ধানবাদ, রাঁচি ছাড়াও একটি দল বিহারেও পাঠানো হয়েছে। পলাতক বন্দিদের সম্ভাব্য আশ্রয়স্থল ও আত্মীয়দের বাড়িতেও অভিযান চালানো হয়েছে।
ঘটনায় গাফিলতির অভিযোগে জেলের ১৮ জন কর্মীকে তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তের পর দুই হেড ওয়ার্ডেন—হরেন্দ্র মাহতো ও উমেশ সিং—কে সাসপেন্ড করা হয়েছে। যে ওয়ার্ড থেকে বন্দিরা পালিয়েছিল, সেখানে তাঁদেরই দায়িত্ব ছিল। তদন্তে জানা গেছে, রাতের অন্ধকার, কুয়াশা ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সুযোগ নিয়ে পরিকল্পিতভাবেই পালানোর ঘটনা ঘটে।
পলাতক বন্দিদের মধ্যে রয়েছে কুখ্যাত দেবা ভূঁইয়া, যে এর আগেও ২০২১ সালে ধানবাদ জেল থেকে পালিয়েছিল| তার বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর মামলা রয়েছে। অপর দুই বন্দি জিতেন্দ্র রাওয়ানি ও রাহুল রাজওয়ার—দু’জনই পকসো আইনে দোষী সাব্যস্ত; একজন ২২ বছরের সাজা এবং অন্যজন যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছিল।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য