
গুয়াহাটি, ৫ জানুয়ারি (হি.স.) : অসমে ৫ দশমিক ১ এবং ত্ৰিপুরায় ৩ দশমিক ৯ প্রাবল্যের ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। কম্পন অনুভূত হয়েছে গোটা উত্তর-পূর্বাঞ্চল জুড়ে। ভূমিকম্পের জেরে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও প্রাণহানি বা সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির খবর না গেলেও দৌড়ঝাঁপ করতে গিয়ে মধ্য অসমের মরিগাঁও জেলায় দুজন আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
আজ সোমবার ভোর ০৪টা ১৭ মিনিট ৪০ সেকেন্ডে গুয়াহাটি সহ মধ্য অসমে রিখটার স্কেলে ৫.১ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এর আগে ত্রিপুরার গোমতী জেলায় ভোররাত ০৩টা ৩৩ মিনিট ৩২ সেকেন্ডে ৩.৯ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে।
জাতীয় ভূকম্পন কেন্দ্র (ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি)-এর জারিকৃত বুলেটিন অনুযায়ী, অসমে ৫.১ মাত্রার ভূমিকম্পটি ভারতীয় সময় ০৪:১৭:৩৫ সেকেন্ডে সংঘটিত হয়েছে। এর উপকেন্দ্র ছিল ব্রহ্মপুত্র নদের দক্ষিণ তীরে অবস্থিত মরিগাঁও জেলা। কম্পনের উৎস ছিল ভূপৃষ্ঠের ৫০ কিলোমিটার গভীরে। উপকেন্দ্রের অবস্থান ছিল ২৬.৩৭° উত্তর অক্ষাংশ এবং দ্রাঘিমাংশ ৯২.২৯° পূর্বে।
এর আগে এদিন ভারতীয় সময় ভোররাত ০৩:৩৩:৩২টায় ত্রিপুরার গোমতী জেলায় ৩.৯ মাত্রার ভূমিকম্প সংঘটিত হয়েছে। ত্ৰিপুরায় ভূমিকম্পের উৎস ছিল ভূপৃষ্ঠের ৫৪ কিলোমিটার গভীরে। উপকেন্দ্রের অবস্থান ছিল ২৩.৬৭° উত্তর অক্ষাংশ এবং দ্রাঘিমাংশ ৯১.৫০° পূর্বে।
এদিকে অসমের একাধিক জেলা যথাক্রমে কামরূপ মহানগর, নগাঁও, পূর্ব কারবি আংলং, পশ্চিম কারবি আংলং, হোজাই, ডিমা হাসাও, গোলাঘাট, যোরহাট, শিবসাগর, চড়াইদেও, কাছাড়, করিমগঞ্জ, হাইলাকান্দি, ধুবড়ি, দক্ষিণ শালমারা-মানকাচর এবং গোলপাড়ায় ভূমিকম্পের কম্পন অনুভূত হয়েছে।
ব্রহ্মপুত্রের উত্তর তীরে অবস্থিত জেলাগুলিতেও কম্পন অনুভূত হয়েছে। সেগুলি দরং, তামুলপুর, শোণিতপুর, কামরূপ (গ্রামীণ), বিশ্বনাথ, ওদালগুড়ি, নলবাড়ি, বজালি, বরপেটা, বাকসা, চিরাং, কোকরাঝাড়, বঙাইগাঁও এবং লখিমপুর।
অসমে ছাড়া উত্তরপূর্বের কেন্দ্রীয় ও পশ্চিমাঞ্চলীয় অরুণাচল প্রদেশ, মেঘালয়, নাগাল্যান্ড, মণিপুর, মিজোরাম ও ত্রিপুরার বিভিন্ন অংশে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। কম্পন অনুভূত হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের একাধিক এলাকায়ও। এছাড়া ভুটানের মধ্য ও পূর্বাঞ্চল, চীনের কিছু অংশ এবং বাংলাদেশেও ভূমিকম্পের ঝাঁকুনি লেগেছে বলে বিভিন্ন সংবাদসূত্ৰে জানা গেছে।
আচমকা ভূমিকম্পে বহু মানুষের শীতঘুম ভেঙে যায়। আতঙ্কিত হয়ে অনেকেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বাড়ি থেকে বেরিয়ে খোলা জায়গায় আশ্রয় নেন। তবে জানা গেছে, অসমের মরিগাঁও-এ দুজন ছাড়া এখন পর্যন্ত অন্য কোনও জায়গা থেকে আহত বা অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
প্রসঙ্গত, গতকাল রবিবার সকাল ০৮টা ২১ মিনিট ২২ সেকেন্ডে মেঘালয়ের পশ্চিম খাসি পাহাড় জেলায় ২.৭ মাত্রার ভূমিকম্প সংঘটিত হয়েছে।
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল দেশের অন্যতম উচ্চ ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। এই এলাকা ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে। কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং বাসিন্দাদের শান্ত থাকার পাশাপাশি ভূমিকম্পের সময় নির্ধারিত নিরাপত্তা বিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস