
রাঁচি, ২৪ ফেব্রুয়ারি (হি.স.): ঝাড়খণ্ডের ছত্রা জেলায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ভেঙে মৃত্যু হয়েছে ৭ জনের। মৃত ৭ জনের মধ্যে বিমানের দু'জন ক্রু রয়েছেন। সোমবার রাতে দুর্ঘটনাটি ঘটে ছত্রা জেলার সিমারিয়া ব্লকের কাসারিয়া পঞ্চায়েতে। এসএসবির সেকেন্ড ইন কমান্ড রমেশ কুমার বলেন, এই এলাকাটি বেশ অভ্যন্তরীণ, দুই কিলোমিটার পর্যন্ত কোনও রাস্তা নেই। রাতে যখন আমরা এখানে পৌঁছই, তখন আমরা দেখতে পাই সবাই মারা গেছেন। বিমানটি জঙ্গলের মাঝখানে ভেঙে পড়ে। এখানে একা হাঁটা একজন ব্যক্তির পক্ষে কঠিন এবং এটি প্রচুর ঝোপঝাড়-সহ একটি গভীর জঙ্গলের অংশ।
সোমবার সন্ধ্যা ৭টা ১১ মিনিটে রাঁচির বিরসা মুণ্ডা এয়ারপোর্ট থেকে ওড়ে বিচক্র্যাফট কিং এয়ার বিই৯এল মডেলের এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স। অগ্নিদগ্ধ সঞ্জয় কুমারকে (৪১) চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল দিল্লিতে। তাঁর শরীরের ৬৩ শতাংশই পুুড়ে গিয়েছিল। এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সটিতে মোট সাত জন সওয়ারি ছিলেন। পাইলট-ইন-কম্যান্ড বিবেক বিকাশ ভগত এবং কো-পাইলট সবরাজদীপ সিংয়ের পাশাপাশি ছিলেন চিকিৎসক বিকাশ কুমার গুপ্ত, প্যারামেডিক স্টাফ সচিন কুমার মিশ্র, রোগীর দুই আত্মীয় অর্চনা দেবী ও ধ্রুব কুমার। রাত ১০টায় দিল্লিতে অবতরণের কথা ছিল তাঁদের। রাঁচি থেকে ওড়ার পরেই আবহাওয়া খারাপ হতে শুরু করে। কলকাতা বিমানবন্দরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সের পাইলট। তখনই রুট পরিবর্তনের অনুরোধ জানান তাঁরা। কিন্তু সন্ধ্যা ৭টা ৩৪ মিনিটে কলকাতা বিমানবন্দরের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তখন বারাণসী থেকে ১০০ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণ পূর্বে ছিল এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সটি। লখনৌ এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গেও তাঁরা আর যোগাযোগ করতে পারেননি। উড়ান শুরুর কিছুক্ষণ পরেই ঝাড়খণ্ডের ছত্রায় ভেঙে পড়ে মেডিক্যাল চার্টার্ড বিমানটি। দুর্ঘটনায় ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার জন্য খারাপ আবহাওয়াকেই দায়ী করেছেন রাঁচি বিমানবন্দরের ডিরেক্টর বিনোদ কুমারও। ইতিমধ্যে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এয়ারক্রাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সংবাদ