
নয়াদিল্লি, ২৪ ফেব্রুয়ারি (হি.স.): প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পৌরোহিত্যে অর্থনীতি বিষয়ক কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার কমিটি শ্রীনগর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১,৬৬৭ কোটি টাকা অনুমিত ব্যয়ে প্রস্তাবিত সিভিল এনক্লেভ গড়ে তোলার অনুমোদন দিয়েছে। এটি কাশ্মীর উপত্যকায় অসামরিক বিমান পরিকাঠামো এবং যোগাযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে এক বৃহৎ মাইলফলক। এই প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত হবে নিরাপত্তা কর্মীদের স্বার্থে ছাউনি নির্মাণ। ভারতীয় বিমানবাহিনীর বদগাম বিমান ঘাঁটির মধ্যে ভারতীয় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ পরিচালিত এই বিমানবন্দরটি ২০০৫ সালে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মর্যাদা পায়। শ্রীনগর শহর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে এটি অবস্থিত।
নতুন সিভিল এনক্লেভ প্রকল্পটি ৭১.১৮ একর এলাকা জুড়ে গড়ে উঠবে। এখানে থাকবে অত্যাধুনিক মানের ৭১ হাজার ৫০০ বর্গ মিটার এলাকা জুড়ে একটি টার্মিনাল বিল্ডিং, যা ব্যস্ত সময়ে ২ হাজার ৯০০ যাত্রী পরিচালনে সক্ষম এবং বার্ষিক ১ কোটি যাত্রী চলাচলে সক্ষম হবে। এখানে বর্ধিত অ্যাপ্রনে ১৫টি বিমানকে পার্কিং বে’তে রাখা যাবে। বর্তমানে সেখানে ৯টি রয়েছে। এর পাশাপাশি, ভারতীয় বিমানবাহিনীর রানওয়ে-টিও চালু থাকবে। সেইসঙ্গে, বহুতল গাড়ি পার্কিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে, যেখানে হাজারটি গাড়ি রাখা যাবে।
স্থাপত্যগতভাবে নতুন টার্মিনাল বিল্ডিংটি আধুনিক নকশার সঙ্গে কাশ্মীরের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক মেলবন্ধন গড়ে তুলবে। জলের অপচয় রুখতে জলকে পুনর্ব্যবহারযোগ্য করে তুলতে আধুনিক জল সঞ্চয়ের ব্যবস্থা, বিদ্যুতের অপচয় রুখতে সূর্যের আলো যথাসম্ভব ব্যবহার করা, কার্বন নিঃসরণ রোধে পরিবেশ-বান্ধব ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পটির পাঁচ তারা যুক্ত গৃহ রেটিং অর্জন করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে। পরিকাঠামোর প্রসার ছাড়াও এই প্রকল্পের মাধ্যমে পর্যটন এবং আর্থিক সমৃদ্ধির প্রসার ঘটবে। ডাল লেক, শঙ্করাচার্য মন্দির প্রভৃতি দ্রষ্টব্য স্থানগুলির সঙ্গে প্রত্যক্ষ যোগাযোগ গড়ে তোলায় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে শ্রীনগরের গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পাবে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌম্যজিৎ