
দুর্গাপুর, ২৬ ফেব্রুয়ারি (হি.স.) : অদ্ভুতুড়ে তথ্য উঠে এল ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায়। দুর্গাপুর পূর্ব বিধানসভার বিজড়া গ্রামের ৮৮ নম্বর বুথে একই পরিবারের একাধিক সন্তানের বয়সের মধ্যে অস্বাভাবিক ব্যবধান সামনে এসেছে। অভিযোগ, শুনানির সময় এই অসঙ্গতি ধরা না পড়লেও তা সংশোধন ছাড়াই পোর্টালে আপলোড হয়ে গিয়েছে। বিষয়টি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।
দুর্গাপুর পূর্ব বিধানসভার বিজড়া গ্রামের বাসিন্দা আইনুল শা ও তাঁর স্ত্রী মনোয়ারা বিবির আট সন্তানের ভোটার কার্ডে বয়স সংক্রান্ত একাধিক অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে। নথি অনুযায়ী, তাঁদের প্রথম সন্তান সমির শার জন্ম ১৯৮৮ সালে। দ্বিতীয় সন্তান আমির আলি শার সঙ্গে বয়সের ব্যবধান মাত্র চার মাস ২৬ দিন। এরপর তৃতীয় সন্তান আমিনা শার সঙ্গে আমির আলির বয়সের ফারাক দেখানো হয়েছে চার বছর ছয় মাস ২৪ দিন।
পরবর্তী সন্তান সাগর শার সঙ্গে আমিনার বয়সের ব্যবধান এক বছর ১২ দিন। এরপর পিঙ্কি শার সঙ্গে সাগরের বয়সের ফারাক মাত্র দুই মাস আট দিন। আবার হায়দার শার ক্ষেত্রে পিঙ্কির সঙ্গে বয়সের ব্যবধান চার মাস ২৬ দিন। সপ্তম সন্তান স্বপন শার সঙ্গে হায়দারের বয়সের ব্যবধান সাত বছর দুই মাস ২২ দিন এবং অষ্টম সন্তান মর্জিনা শার সঙ্গে স্বপনের বয়সের ফারাক ছয় মাস ছয় দিন দেখানো হয়েছে।
আইনুল শা বলেন, “আমরা এসব বিষয় বুঝি না। যাঁরা ভোটার কার্ড তৈরি করেছিলেন, তাঁদেরই যাচাই করা উচিত ছিল। শুনানির সময় আমাদের কিছু জানানো হয়নি। এখন কার্ডে বয়সের এই গরমিল দেখে আমরা উদ্বিগ্ন।”
এই ঘটনায় কমিশন নিযুক্ত আধিকারিকদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শুনানির সময় কেন এই অসঙ্গতি ধরা পড়েনি এবং কীভাবে তা সংশোধন ছাড়াই পোর্টালে আপলোড হল, তা নিয়ে তদন্তের দাবি উঠেছে।
ঘটনার প্রতিবাদে সরব হয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি। দলের বর্ধমান-দুর্গাপুর সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় কটাক্ষ করে বলেন, এত কম সময়ের ব্যবধানে সন্তান জন্ম দেওয়া সত্যিই বিরল। এই কারণেই এসআইআর প্রয়োজন। শুনানিতে এই গরমিল কেন ধরা পড়ল না, তার জবাব চাই। সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সাসপেন্ড করার দাবি জানাচ্ছি। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, দুর্গাপুরের মহকুমা শাসক সুমন বিশ্বাস বলেন, “যদি নথিপত্রে কোনও অসঙ্গতি থেকে থাকে, নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় তা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। আধার কার্ড বা অন্যান্য নথির মাধ্যমে সংশোধন করা সম্ভব। এতে আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই।”
এ বিষয়ে ভারতীয় নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, নথিতে বয়স সংক্রান্ত যে অসঙ্গতি দেখা যাচ্ছে, তা প্রশাসনিক ত্রুটি কি না, সে বিষয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / জয়দেব লাহা