
সিওয়ান, ২৬ ফেব্রুয়ারি (হি.স.): ভূমিকম্প হলে কী করতে হবে তার মহড়া হল বৃহস্পতিবার সকালে। বিহারের সিওয়ান জেলায়। জেলা শাসক বিবেক রঞ্জন মৈত্রেয়ের নেতৃত্বে আয়োজিত এই রাজ্যস্তরীয় মহড়া জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ এবং বিহার রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষের নির্দেশিকা অনুযায়ী পরিচালিত হয়। মহড়ার অংশ হিসেবে পুরনো যক্ষ্মা ভবন ধসে পড়ার প্রতীকি চিত্র দেখানো হয়। তাতে দুই জনের মৃত্যুর পাশাপাশি একাধিক আহতের খবর জানানো হয়। একইসঙ্গে ডিআরসিসি প্রাঙ্গণে আহত হওয়ার ঘটনাও দেখানো হয়। তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই গান্ধী ময়দান স্টেজিং এরিয়া থেকে অ্যাম্বুলেন্স ও উদ্ধারকারী দল রওনা দেয়। গ্রিন করিডোর তৈরি করে আহতদের দ্রুত সদর হাসপাতালে পৌঁছে দিয়ে দুর্ঘটনা ব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসা পরিকাঠামো যাচাই করা হয়।
জেলার সাতটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একযোগে কৃত্রিম উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। এর মধ্যে ছিল সরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া ছাত্রদের উদ্ধার, হাসপাতালে জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা, বিআইএডিএ ও ডিআরসিসি এলাকায় নিরাপদ সরিয়ে নেওয়া, অফিসার্স কলোনিতে উঁচু ভবন থেকে উদ্ধার অভিযান এবং মহারাজগঞ্জ মহকুমা কার্যালয় ও একটি পেট্রোল পাম্প এলাকায় অগ্নিনির্বাপণ ও ভিড় নিয়ন্ত্রণ মহড়া। গান্ধী ময়দানে এনডিআরএফ ও এসডিআরএফ দল মোতায়েন রাখা হয়। আম্বেদকর ভবন ও টাউন হলে ত্রাণ শিবির খুলে অস্থায়ী আশ্রয়, খাবার ও পানীয় জলের ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি পুলিশ লাইন মাঠে হেলিবেস তৈরি করে এয়ার ইভাকুয়েশনের মহড়াও চালানো হয়।
স্বাস্থ্য দফতর , পুলিশ, দমকল বিভাগ, এনসিসি ক্যাডেট, হোমগার্ড, ‘আপদা মিত্র’ ও জীবিকা কর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে ‘ইনসিডেন্ট রেসপন্স সিস্টেম’-এর অধীনে বিভাগগুলির মধ্যে সমন্বয় ও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা যাচাই হয়। জেলা শাসক জানান, এই ধরনের মহড়ার মূল উদ্দেশ্য বাস্তব বিপর্যয়ের সময় প্রাণ ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি যতটা সম্ভব কমিয়ে আনা। মেগা মক ড্রিল স্পষ্ট করেছে যে সিওয়ান জেলা প্রশাসন যে কোনও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত ও সতর্ক।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য