
বাঁকুড়া, ২৬ ফেব্রুয়ারি (হি.স.): জাতীয় জনজাতি কমিশনের নির্ধারিত বৈঠকে জেলা শাসক ও পুলিশ সুপারের অনুপস্থিতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কমিশনের সদস্যরা। বৃহস্পতিবার বাঁকুড়ায় আয়োজিত বৈঠকে জেলা প্রশাসনের দুই শীর্ষ কর্তার গড়হাজিরাকে জনজাতি উন্নয়নের ক্ষেত্রে সদিচ্ছার অভাব বলেই ব্যাখ্যা করেছেন কমিশনের প্রতিনিধিরা।
জাতীয় জনজাতি কমিশন-এর সদস্য আশা লাকড়া ও অনুপম চাকমা জানান, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার মতো জনজাতি অধ্যুষিত জেলাগুলিতে জনজাতি সম্প্রদায়ের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান ও সামগ্রিক সামাজিক অবস্থার খোঁজখবর নিতেই তাঁরা তিনদিনের রাজ্য সফরে এসেছেন। এদিন বাঁকুড়া জেলার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হওয়ার কথা থাকলেও জেলা শাসক ও পুলিশ সুপার কেউই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।
এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে কমিশনের সদস্যরা বলেন, জেলার জনজাতি সম্প্রদায়ের উন্নয়নে জেলা প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তরের আধিকারিদের আরও বেশি দায়িত্বশীল হওয়া উচিত। অথচ এমন গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তাঁদের অনুপস্থিতি প্রশাসনিক উদাসীনতারই প্রতিফলন। কমিশনের তরফে জানানো হয়, জেলার একাধিক জনজাতি এলাকায় এখনও পানীয় জলের ব্যবস্থা নেই। শিউলিবোনা গ্রামের উদাহরণ টেনে বলা হয়, সেখানে মানুষ কুয়োর জল পান ও ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন। এছাড়াও জেলায় ১২১টি জনজাতি ছাত্রাবাস বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। উচ্চশিক্ষায় অলচিকি ভাষার শিক্ষক না থাকায় পড়ুয়ারা সমস্যায় পড়ছেন।
কৃষিক্ষেত্রেও একাধিক সমস্যা তুলে ধরেন কমিশনের সদস্যরা। তাঁদের অভিযোগ, বহু এলাকায় সেচের অভাবে চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে। জলাধার থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনের সময় পর্যাপ্ত জল মিলছে না। কৃষিঋণের সুযোগ থাকলেও এই অনিশ্চয়তার কারণে বহু কৃষক ঋণ নিতে সাহস পাচ্ছেন না। এই সমস্ত বিষয়ই জেলার জনজাতি উন্নয়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মত কমিশনের।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সোমনাথ বরাট