
আগরতলা, ২৬ ফেব্রুয়ারি (হি.স.) : ত্রিপুরা সরকারের বিভিন্ন দফতরে একাধিক পদে নিয়োগ, ছাত্রছাত্রীদের জন্য বিনামূল্যে কোচিং সেন্টার চালু এবং ‘নারী আদালত’ প্রকল্প বাস্তবায়নসহ একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য মন্ত্রিসভা। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ের প্রেস কনফারেন্স হলে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এ কথা জানান পর্যটনমন্ত্রী ।
মন্ত্রী জানান, রাজস্ব দফতরের অধীনে ৬ জন অ্যাসিস্টেন্ট সার্ভে অফিসার এবং ১০ জন রেভিনিউ ইন্সপেক্টর নিয়োগ করা হবে। এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে (টিপিএসসি)। এছাড়া স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতরের অধীনে ৩২ জন জুনিয়র ড্রাইভার নিয়োগ করা হবে, যা পরিবহণ দফতরের মাধ্যমে সরাসরি সম্পন্ন হবে।
তিনি আরও জানান, তপশিলি জাতি কল্যাণ দফতরের অধীনে রাজ্যের আবাসিক হোস্টেলগুলিতে থাকা ছাত্রছাত্রীদের দৈনিক স্টাইপেন্ড ৮০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০০ টাকা করা হয়েছে। এর ফলে রাজ্য সরকার পরিচালিত ৩৩টি বালক, ২২টি বালিকা এবং ১টি এনজিও পরিচালিত হোস্টেলের মোট ৭১২ জন ছাত্রছাত্রী উপকৃত হবে।
২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের বাজেট ঘোষণার প্রেক্ষিতে সর্বভারতীয় স্তরের বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য রাজ্যে সম্পূর্ণ সরকারি উদ্যোগে বিনামূল্যে কোচিং সেন্টার চালুর সিদ্ধান্তও কার্যকর করা হচ্ছে। মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই কোচিং সেন্টার খোলা হবে। আগরতলায় ইউপিএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য ১২ মাস মেয়াদি কোচিং চালু হবে। সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা করে ক্লাস নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, এসএসসি, আরআরবি ও আইবিপিএস পরীক্ষার কোচিং যথাক্রমে আমবাসার জিডিসি এবং উদয়পুরের -এ শুরু হবে। এসব কোচিংয়ের মেয়াদ হবে ৬ মাস এবং সপ্তাহে ২৪ ঘণ্টা ক্লাস অনুষ্ঠিত হবে। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে উচ্চশিক্ষা দফতরের অধীনে এই কর্মসূচি চালু হবে। মেধার ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ১০০ জন করে ছাত্রছাত্রী প্রতিটি কেন্দ্রে সুযোগ পাবে এবং কেবলমাত্র রাজ্যের স্থায়ী বাসিন্দারাই আবেদন করতে পারবে।
এছাড়া কেন্দ্রীয় সামাজিক ন্যায় ও ক্ষমতায়ন মন্ত্রকের অধীনে ‘নারী আদালত’ নামে নতুন একটি প্রকল্প রাজ্যের ১০টি পঞ্চায়েতে পাইলট প্রকল্প হিসেবে চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গ্রামীণ এলাকায় অত্যাচারিত, শারীরিক নিগৃহীত কিংবা আক্রান্ত মহিলাদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে এই আদালত কাজ করবে। সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দফতর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। সংশ্লিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েতে সর্বোচ্চ ৯ সদস্যের একটি কমিটি এই আদালত পরিচালনা করবে, যেখানে স্বনামধন্য ব্যক্তি ও স্থানীয় প্রতিনিধিরা থাকবেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ