পশ্চিমবঙ্গে ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হবে বিশেষ পুনরীক্ষণ পরবর্তী ভোটার তালিকা
কলকাতা, ২৭ ফেব্রুয়ারি (হি.স.): পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় পুনরীক্ষণের (এসআইআর) পর আপডেট হওয়া চূড়ান্ত ভোটার তালিকা আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হতে চলেছে। সাত কোটিরও বেশি ভোটার সম্বলিত এই তালিকাটি কেবল একটি প্রশাসনিক নথি নয়, বরং গত কয়েক ম
এসআইআর


কলকাতা, ২৭ ফেব্রুয়ারি (হি.স.): পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় পুনরীক্ষণের (এসআইআর) পর আপডেট হওয়া চূড়ান্ত ভোটার তালিকা আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হতে চলেছে। সাত কোটিরও বেশি ভোটার সম্বলিত এই তালিকাটি কেবল একটি প্রশাসনিক নথি নয়, বরং গত কয়েক মাস ধরে চলা রাজনৈতিক সংঘাত, আইনি লড়াই এবং প্রতিবাদের এক প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, প্রকাশিত হতে চলা এই তালিকায় ৭.০৮ কোটি ভোটারকে “গৃহীত”, “বাতিল” বা “বিচারাধীন” এই তিন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। ২০০২ সালের পর এটিই প্রথম রাজ্যব্যাপী বিশেষ পুনরীক্ষণ প্রক্রিয়া। কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৬ ডিসেম্বর প্রকাশিত খসড়া তালিকায় ভোটারের সংখ্যা ৭.৬৬ কোটি থেকে কমে ৭.০৮ কোটিতে দাঁড়িয়েছে। মৃত্যু, স্থানান্তর, নাম একাধিকবার থাকা বা সঠিক যাচাইকরণ না হওয়ার কারণে প্রায় ৫৮ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।

দ্বিতীয় পর্যায়ে ১.৬৭ কোটি ভোটারের শুনানি গ্রহণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ১.৩৬ কোটি ভোটারের ক্ষেত্রে “যৌক্তিক অসঙ্গতি” এবং ৩১ লক্ষ ভোটারের ম্যাপিং ত্রুটি ধরা পড়ে। প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম এখনও “বিচারাধীন” বিভাগে রয়েছে।

কমিশনের দাবি, ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই নিয়মিত ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে এই প্রক্রিয়া রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে বড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস এই পুনরীক্ষণকে “পিছনের দরজা দিয়ে এনআরসি” বলে অভিহিত করে তীব্র বিরোধিতা করেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক নজিরবিহীন পদক্ষেপে “একজন সাধারণ নাগরিক” হিসেবে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়েছেন যাতে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন ২০২৫-এর ভোটার তালিকার ভিত্তিতেই হয়। তাঁর অভিযোগ, ত্রুটির দোহাই দিয়ে লক্ষ লক্ষ প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এই প্রক্রিয়াকে সমর্থন করে জানিয়েছে যে, স্বচ্ছ ভোটার তালিকা গণতন্ত্রের ভিত্তি এবং অনুপ্রবেশকারী বা ভুয়া নাম বাদ দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। সিপিআইএম এবং কংগ্রেস এই প্রক্রিয়ার সময় ও পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার আতঙ্কে মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি উঠেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, ৪ নভেম্বর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকে এখনও পর্যন্ত অন্তত ১২০ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে সাধারণ ভোটার ছাড়াও বুথ স্তরের আধিকারিকরা রয়েছেন। বিজেপি অবশ্য এই অভিযোগ খারিজ করে একে “রাজনৈতিক ফায়দা তোলার জন্য ভয় ছড়ানো” বলে মন্তব্য করেছে।

বিশেষ করে সীমান্ত জেলাগুলিতে মতুয়া সম্প্রদায় এবং বাংলাভাষী মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে নথিপত্র নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ২০০২ সালের তথ্যের সাথে বর্তমান তথ্য সংযুক্ত করার শর্ত অনেকের মনেই আশঙ্কার সৃষ্টি করেছে। যদিও কমিশন স্পষ্ট করেছে যে, এই প্রক্রিয়া নাগরিকত্ব নির্ধারণের জন্য নয় এবং নাম বাদ যাওয়া ভোটারদের কাছে আপিল করার সুযোগ থাকবে।

আগামী বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক দু’মাস আগে প্রকাশিত হতে চলা এই তালিকা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নতুন করে সংঘাতের পথ প্রশস্ত করতে পারে। যেখানে শাসক দল একে “পরিচয় ও গরিবের অধিকারের লড়াই” বলছে, সেখানে বিরোধী পক্ষ একে “জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বচ্ছ ভোটার তালিকা”র প্রেক্ষাপটে তুলে ধরছে। শনিবার প্রকাশিত এই তালিকা ২০২৬ নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির এক নির্ণায়ক বিন্দু হতে চলেছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande