
খোয়াই (ত্রিপুরা), ২৭ ফেব্রুয়ারি (হি.স.) : ত্রিপুরা ট্রাইব্যাল এরিয়া অটনোমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল (টিটিএএডিসি) নির্বাচনের আগে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী নিয়োগ ঘিরে শাসকজোটের শরিকদের মধ্যে তীব্র বিবাদে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে খোয়াই জেলার তুলাশিখর ব্লক এলাকা। সংকীর্ণ রাজনৈতিক ফায়দা তোলার অভিযোগে বড় ও ছোট শরিকের সংঘাতে এক অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। ফলে নিয়োগপত্র পাওয়া এক অবসরপ্রাপ্ত মহিলা কর্মস্থলে গিয়েও যোগ দিতে পারেননি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের মে মাসে তুলাশিখর আইসিডিএস প্রকল্পের অধীনে বিভিন্ন অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে কর্মী ও সহায়িকার মোট ১৭টি শূন্যপদ পূরণের জন্য সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। কিন্তু প্রায় দশ মাস কেটে গেলেও নিয়োগপত্র বিতরণ হয়নি। অভিযোগ, কোন শরিক দলের ঘরে কতগুলি পদ যাবে, তা নিয়ে শাসকজোটের দুই শরিক— বিজেপি ও তিপ্রা মথা—সমর্থকদের মধ্যে টানাপোড়েন শুরু হয়। বড় শরিকের জেলা সভাপতি ও ছোট শরিকের এক মন্ত্রীর মধ্যস্থতার পরও সমাধানসূত্র বের হয়নি বলে অভিযোগ।
এদিকে কর্মী ও সহায়িকার অভাবে একাধিক অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র কার্যত অচল হয়ে পড়ে। শিশু ও প্রসূতি মায়েদের পুষ্টি প্রকল্প-সহ একাধিক পরিষেবা ব্যাহত হয়।
সম্প্রতি টিটিএএডিসি নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘনিয়ে আসায় ১৭টির মধ্যে ১৩টি শূন্যপদের নিয়োগপত্র বিতরণ করা হয়। কিন্তু অভিযোগ ওঠে, অধিকাংশ নিয়োগই গেছে বড় শরিক বিজেপি ঘনিষ্ঠ প্রার্থীদের কাছে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন ছোট শরিক তিপ্রা মথার কর্মী-সমর্থকেরা।
তুলাশিখর ব্লকের রাজনগর টিটএএডিসি ভিলেজের মানিক চৌধুরী পাড়া অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে নিয়োগপত্রপ্রাপ্ত এক অবসরপ্রাপ্ত মহিলা কাজে যোগ দিতে গেলে কেন্দ্রের দরজায় তালা ঝুলতে দেখেন। অভিযোগ, তিপ্রা মথার ক্ষুব্ধ কর্মীরাই ওই কেন্দ্রের দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেন। ফলে তিনি কাজে যোগ দিতে পারেননি।
শুক্রবার ওই মহিলা পুরো বিষয়টি লিখিতভাবে তুলাশিখর আইসিডিএস প্রকল্পের সিডিপিও এবং ব্লকের বিডিও-এর কাছে জানান।
আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ব্লকের আরও কয়েকটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে কর্মী ও সহায়িকা নিয়োগপত্র বিতরণকে কেন্দ্র করে নতুন করে শরিকী বিবাদের আশঙ্কা রয়েছে বলে স্থানীয় মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। প্রশাসনের তরফে এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ