
গুয়াহাটি, ২৮ ফেব্রুয়ারি (হি.স.) : শিল্পী ও সাহিত্যিকরা আমাদের সমাজকে যুগে যুগে পথ দেখিয়ে এসেছেন। আজ শনিবার গুয়াহাটির শ্রীমন্ত শংকরদেব কলাক্ষেত্রের শ্রীশ্রী দামোদরদেব আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাগৃহে অসম সরকারের সাংস্কৃতিক বিষয়ক বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত জাতীয় ও রাজ্যস্তরের পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দিতে গিয়ে সাংস্কৃতিক বিষয়ক মন্ত্রী বিমল বরা এ কথা বলেন।
শিল্পীদের আলোর যাত্রী হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বরা বলেন, শিল্পীরা তাঁদের নিজস্ব চিন্তাধারা ও সৃষ্টির মাধ্যমে নিজেদের কাজকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেন। ভাষণে মন্ত্রী বিমল বরা একটি সুস্থ সমাজ গঠনে শিল্পী-সাহিত্যিকদের ভূমিকার বিষয়েও আলোকপাত করেন।
সভায় উপস্থিত বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে মন্ত্রী আনন্দচন্দ্র আগরওয়ালার “মহা মহা পুরুষর চানেকীরে জীবনর আমিও করিব পারো জীবন গঢ়িত...” পঙক্তিটি গেয়ে যে সকল মহান অসমীয়ার স্মৃতিতে পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে এবং পুরস্কারপ্রাপকদের বিষয়ে বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন।
আজকের অনুষ্ঠানে দুটি জাতীয় স্তরের পুরস্কারের পাশাপাশি আরও পাঁচটি রাজ্যস্তরের পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে। ২০২৫ সালের লোকপ্রিয় গোপীনাথ বরদলৈ জাতীয় সংহতি পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ ড. অমলেন্দু চক্রবর্তীকে। অপরদিকে পণ্ডিতপ্রবর কৃষ্ণকান্ত সন্দিকৈ পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে বিশিষ্ট সাহিত্যিক-শিক্ষাবিদ মনেশ্বর দেউরিকে। উভয়কেই সাংস্কৃতিক মন্ত্রী বিমল বরা একটি করে মানপত্র, শরাই, গামোছা এবং যথাক্রমে পাঁচ লক্ষ ও তিন লক্ষ টাকার চেক প্রদান করেছেন।
অন্যদিকে রাজ্যস্তরের পুরস্কারের মধ্যে ২০২৬ সালের রূপকোঁওর জ্যোতিপ্রসাদ আগরওয়ালার স্মৃতিতে শিল্পী পুরস্কার মরণোত্তরভাবে প্রদান করা হয় অসমীয়া আধুনিক গান ও চলচ্চিত্রের বিশিষ্ট কণ্ঠশিল্পী প্রয়াত সমর হাজরিকা এবং কামরূপী লোকগীতের শিল্পী ধনদা পাঠককে।
২০২৫ সালের নটসূর্য ফণী শর্মা পুরস্কার প্রদান করা হয় নাট্যকার করুণা ডেকাকে। একই বছরের ড. ভবেন্দ্রনাথ শইকিয়া পুরস্কার এবং বিজু ফুকন পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে যথাক্রমে চলচ্চিত্র পরিচালক অরূপ মান্না এবং সুরকার ও সংগীত পরিচালক অবনী রঞ্জন পাঠককে। এই সকল পুরস্কারপ্রাপকদের প্রত্যেককে একটি করে শরাই, গামোছা, মানপত্র এবং দুই লক্ষ টাকার চেক প্রদান করা হয়েছে।
এছাড়াও এই অনুষ্ঠানে ৮০ জন শিল্পীকে নিয়মিত শিল্পী পেনশন, ১৭২ জনকে বার্ষিক শিল্পী সম্মান এবং পাঁচজন প্রয়াত শিল্পীর পরিবারকে এককালীন আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
পুরস্কার প্রদানের আগে প্রত্যেক পুরস্কারপ্রাপকের জীবন ও কর্মের ওপর নির্মিত একটি করে সংক্ষিপ্ত তথ্যচিত্রও প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ প্রদান করেন সাংস্কৃতিক আধিকর্তা রাহুলচন্দ্র দাস। অনুষ্ঠানে সাংসদ বিজুলি কলিতা মেধি এবং শ্রীমন্ত শংকরদেব কলাক্ষেত্র সমাজের উপসভাপতি প্রাঞ্জল শইকিয়া বক্তব্য পেশ করেছেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস