

গুয়াহাটি, ২৮ ফেব্ৰুয়ারি (হি.স.) : জ্ঞান ও করুণা একসঙ্গে চললে সামাজিক সাম্য ও সমষ্টিগত অগ্রগতি শক্তিশালী হয়, বলেছেন রাজ্যপাল লক্ষ্মণপ্রসাদ আচার্য। আজ শনিবার লোক ভবনে “ভারতীয় ঐতিহ্যে বৈদিক জ্ঞানের গুরুত্ব” শীর্ষক এক বিশেষ বক্তৃতানুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে বলেছেন রাজ্যপাল।
সেবা সংকল্প সপ্তাহের সমাপনী অধিবেশন উপলক্ষ্যে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। রাজ্যপাল আচাৰ্য সপ্তাহব্যাপী “সেবা সংকল্প সপ্তাহ” কর্মসূচির সফল সমাপ্তিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, লোক ভবন, অসম জনগণের সর্বাঙ্গীণ উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার উদ্দেশ্যে আউটরিচ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই কর্মসূচির আয়োজন করেছিল। তিনি উল্লেখ করেন, সপ্তাহজুড়ে কার্যক্রমে সেবার মানসিকতা, জনসম্পৃক্ততা এবং সাংস্কৃতিক সচেতনতা এই উদ্যোগের কার্যকারিতার প্রমাণ বহন করে।
বৈদিক মন্ত্র “আ নো ভদ্রাঃ ক্রতবো যন্তু বিশ্বতঃ” উদ্ধৃত করে রাজ্যপাল বলেন, “সব দিক থেকে আমাদের কাছে কল্যাণকর চিন্তা আসুক।” তিনি বলেন, ভারতের ঐতিহ্য সর্বদাই মুক্ত চিন্তাধারা ও জ্ঞানকে জনকল্যাণে রূপান্তরের প্রেরণা দিয়েছে। তাঁর মতে, সেবা সংকল্প সপ্তাহ বৈদিক চেতনার বাস্তব প্রতিফলন, যেখানে সেবাকে দান নয়, দায়িত্ব হিসেবে দেখা হয়।
ভারতীয় দর্শনে জ্ঞান ও সেবার সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে রাজ্যপাল লক্ষ্মণপ্রসাদ বলেন, যখন জ্ঞান ও করুণা একসঙ্গে এগিয়ে চলে, তখন সামাজিক ভারসাম্য ও সমষ্টিগত অগ্রগতি সুদৃঢ় হয়। অসমের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রসঙ্গে তিনি একে রাজ্যের জীবনদায়ী সমৃদ্ধির জীবন্ত প্রতীক বলে অভিহিত করেন। শ্রীমন্ত শংকরদেবের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে তিনি বলেন, তাঁর এক-শরণ-নাম-ধর্ম এবং নামঘর ও সত্র প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ভক্তি, জ্ঞান ও সামাজিক সেবার এক অনন্য সমন্বয় গড়ে উঠেছে।
রাজ্যপাল আরও বলেন, সেবা সংকল্প সপ্তাহে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ - স্বাস্থ্য সচেতনতা কর্মসূচি, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, সচেতনতা প্রচার এবং শিক্ষামূলক কার্যক্রম স্পষ্ট বার্তা দেয় যে শাসনের মূল সত্তা হলো সেবা। তিনি সকল অংশীদারকে সারা বছর এই মনোভাব বজায় রাখার আহ্বান জানান, যাতে সেবাকে মূল্যভিত্তিক দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের বেদ বিভাগের প্রাক্তন প্রধান অধ্যাপক পতঞ্জলি মিশ্র, রাজ্যপালের কমিশনার-সচিব এসএস মীনাক্ষী সুন্দরম, কুমার ভাস্কর বর্মা সংস্কৃত ও প্রাচীন অধ্যয়ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক প্রহ্লাদ জোশি এবং গুয়াহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের প্রধান অধ্যাপক কামেশ্বর শুক্লা উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁদের মতামত ব্যক্ত করেছেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস