
আগরতলা, ২৮ ফেব্রুয়ারি (হি.স.) : সারভাইকেল ক্যান্সার প্রতিরোধে জাতীয় এইচপিভি টিকাকরণ অভিযানকে বিকশিত ভারতের লক্ষ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছেন প্রদেশ বিজেপি সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য। শনিবার রাজধানী আগরতলায় আইজিএম হাসপাতালে রাজ্যভিত্তিক এই টিকাকরণ কর্মসূচির সূচনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্যোগে শনিবার থেকেই দেশজুড়ে জরায়ুমুখের ক্যান্সার প্রতিরোধে এইচপিভি টিকাকরণ অভিযান শুরু হয়েছে। আগামী তিন মাস ধরে চলবে এই বিশেষ কর্মসূচি। এদিন আগরতলায় আইজিএম হাসপাতালে আয়োজিত রাজ্যস্তরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা । অনুষ্ঠানে অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্যও।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজীব ভট্টাচার্য বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে বিকশিত ভারতের স্বপ্ন দেখিয়েছেন এবং সেই লক্ষ্য পূরণে একের পর এক কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা, রোবটিক সার্জারি এবং কেন্দ্রীয় বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে বাড়তি বরাদ্দ তারই প্রমাণ। তিনি জানান, জরায়ুমুখের ক্যান্সার প্রতিরোধে এইচপিভি টিকা দেশীয় প্রযুক্তিতে প্রস্তুত, যা আত্মনির্ভর ভারতের অগ্রযাত্রার প্রতীক। এই উদ্যোগের জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতিবছর বহু মহিলা নতুন করে সার্ভিকাল ক্যান্সারে আক্রান্ত হন এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মৃত্যুও ঘটে। আইসিএমআর বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্দিষ্ট বয়সে এইচপিভি টিকা গ্রহণ করলে ভবিষ্যতে ক্যান্সার সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গেছে, ১৪ বছর বা তার বেশি কিন্তু ১৫ বছর পূর্ণ হয়নি—এমন কিশোরীরাই এই টিকার আওতায় আসবে। রাজ্যে এই অভিযানের মাধ্যমে প্রায় ১৭ হাজার ৫০০ জন কিশোরীকে টিকা প্রদান করা হবে। রাজ্যের সমস্ত রুটিন ইমিউনাইজেশন স্টেশন, জিবিপি হাসপাতাল, আইজিএম হাসপাতাল, সব প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র, সামাজিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র, মহকুমা স্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং জেলা হাসপাতালগুলিতে এই টিকা প্রদান করা হবে বলে স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ