নাকা চেকিং কার্যত অচল, বুদবুদের জাতীয় সড়কে অবাধ ওভারলোডিং বালি পাচার
দুর্গাপুর, ২৮ ফেব্রুয়ারি(হি. স.): ওভারলোডিং, নেই বৈধ চালান, নেই ওজন পরিমাপের ওয়েট স্লিপ। অথচ গুরুত্বপুর্ণ জাতীয় সড়কে কার্যত শিকেয় উঠেছে নাকা চেকিং। রাজ্যের কোষাগার যখন অর্থসঙ্কটে, তখন গলসীর দামোদর নদের বিভিন্ন ঘাট থেকে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার রাজস
১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের বুদবুদ বাইপাস এলাকায় সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা ওভারলোডিং বালিবোঝাই লরি।


দুর্গাপুর, ২৮ ফেব্রুয়ারি(হি. স.): ওভারলোডিং, নেই বৈধ চালান, নেই ওজন পরিমাপের ওয়েট স্লিপ। অথচ গুরুত্বপুর্ণ জাতীয় সড়কে কার্যত শিকেয় উঠেছে নাকা চেকিং। রাজ্যের কোষাগার যখন অর্থসঙ্কটে, তখন গলসীর দামোদর নদের বিভিন্ন ঘাট থেকে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অবাধে চলছে ‘অবৈধ’ বালিবোঝাই লরির যাতায়াত। অভিযোগ উঠেছে, পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের প্রচ্ছন্ন মদতেই এই বালি পাচারের রমরমা কারবার চলছে। এমনই চিত্র ধরা পড়েছে ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের বুদবুদ বাইপাস এলাকায়।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি পানাগড়ের ধরলা মোড় থেকে পালশিট পর্যন্ত জাতীয় সড়কটি ছয় লেনে সম্প্রসারিত হয়েছে। আধুনিক মানে নির্মিত এই সড়কে সার্ভিস লেন, আন্ডারপাস ও উড়ালপুলের পাশাপাশি প্রতি দুই কিলোমিটার অন্তর সিসি ক্যামেরার বসানো হয়েছে। থানা ভিত্তিক নাকা চেকপোস্ট ও অতিরিক্ত নজরদারির ব্যবস্থাও রয়েছে। তা সত্ত্বেও পুলিশ প্রশাসনের নাকের ডগায় দিনরাত অবাধে চলছে ওভারলোডিং বালিবোঝাই লরি ও ডাম্পার।

অভিযোগ, গলসীর দামোদর নদের শিকারপুর, শিল্ল্যাঘাট ও সোদপুর—এই বৈধ ঘাটগুলি থেকেই রাত নামলেই ওভারলোডিং করে বালি তোলা হচ্ছে। বুদবুদ ও পানাগড় এলাকার বিভিন্ন ঠিকাসংস্থার নির্মাণকাজে এই বালি সরবরাহ করা হচ্ছে। এর ফলে গলসী-১ ব্লকের সোদপুর ও নিমডাঙা এলাকায় সেচ ক্যানেলের পাড় সংলগ্ন রাস্তায় ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার রাস্তার পিচ উঠে গিয়ে খানাখন্দে ভরে গেছে। যেখানে ১০ টন ভার বহনের ক্ষমতা রয়েছে, সেখানে ৪০–৫০ টন বালিবোঝাই লরি যাতায়াত করছে বলে অভিযোগ।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, ক্যানেলের পাড় ভেঙে গেলে সেচ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হবে এবং গলসী-১ ও ২ ব্লকের কয়েকশো হেক্টর জমির ধান চাষ মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে। অন্যদিকে জাতীয় সড়কেও ওভারলোডিংয়ের প্রভাব স্পষ্ট। সন্ধ্যার পর থেকে ভোর পর্যন্ত বুদবুদ বাইপাস ও সাধুনগর সার্ভিস লেনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকে বালিবোঝাই লরি। অভিযোগ, ছ’চাকার লরিতে যেখানে সর্বোচ্চ ১২ টন বহনের অনুমতি, সেখানে ৪০–৫০ টন পর্যন্ত বালি তোলা হচ্ছে।

জাতীয় সড়ক দুর্গাপুর আঞ্চলিক বিভাগের প্রজেক্ট ডিরেক্টর প্রমোদ কুমার বলেন, “ওভারলোডিংয়ের ফলে সড়কের মারাত্মক ক্ষতি হয়। টোল প্লাজা ছাড়া ওভারলোডিং ধরার ব্যবস্থা নেই। বিষয়টি সম্পূর্ণ রাজ্য পরিবহন দফতরের এক্তিয়ারে।” লরি চালকদের কাছে চালান বা ওয়েট স্লিপ চাইলে কেউই তা দেখাতে পারেননি বলে অভিযোগ। প্রশ্ন উঠছে—দুই বর্ধমান জেলার নাকা চেকপোস্ট ও একাধিক সিসিটিভির নজর এড়িয়ে কীভাবে এই লরিগুলি জাতীয় সড়ক দিয়ে নির্বিঘ্নে চলাচল করছে?

পরিবেশকর্মী সুব্রত মল্লিক অভিযোগ করেন, “পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের মদত না থাকলে এত বিপুল পরিমাণ ওভারলোডিং বালি পাচার সম্ভব নয়। কোটি কোটি টাকার রাজস্ব সরকারি কোষাগারে না গিয়ে ব্যক্তিগত পকেটে যাচ্ছে। এটি বড়সড় দুর্নীতি। বিষয়টি নিয়ে আইনি পদক্ষেপ করা হবে।”

বিজেপির দুর্গাপুর–বর্ধমান সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি রমন শর্মা বলেন,

“কোনও চালান ছাড়াই অবাধে বালি পাচার হচ্ছে। রাজ্য সরকারের রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে প্রতিদিন। সবটাই তৃণমূল নেতাদের পকেটে যাচ্ছে।”

যদিও অভিযুক্ত বালি সরবরাহকারী রাজেশ মণ্ডল ওরফে রাজু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,

“সব গাড়িতেই বৈধ চালান রয়েছে। মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে।”এ বিষয়ে জেলা ভূমি রাজস্ব দফতরের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে আসানসোল–দুর্গাপুর ট্রাফিক বিভাগের এসিপি রাজকুমার মালাকার জানান, “নিয়মিত নাকা চেকিং করা হয়। বুদবুদের ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হবে।”

হিন্দুস্থান সমাচার / জয়দেব লাহা




 

 rajesh pande