
কলকাতা, ২৮ ফেব্রুয়ারি (হি. স.) : এক সময় যাঁকে কেন্দ্র করে রাজ্য ও কেন্দ্রের সংঘাত চরম রূপ নিয়েছিল, সেই প্রাক্তন দুঁদে পুলিশকর্তা রাজীব কুমারকেই এবার রাজ্যসভায় প্রার্থী করল অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস। আইপিএস হিসেবে কর্মজীবন থেকে অবসর নেওয়ার মাত্র এক মাসের মধ্যেই তাঁর সক্রিয় রাজনীতিতে পদার্পণ ঘিরে সরগরম হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি। ১৯৮৯ ব্যাচের এই আইপিএস অফিসার তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে কলকাতা পুলিশ কমিশনার থেকে শুরু করে রাজ্যের পুলিশ মহানির্দেশক (ডিজিপি)—একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও শীর্ষ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
রুরকি আইআইটি-র প্রাক্তনী রাজীব কুমার পুলিশ মহলে অত্যন্ত দক্ষ এবং প্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসনিক আধিকারিক হিসেবে পরিচিত। তবে তাঁর কেরিয়ারে বিতর্কের ছায়াও কম নয়। সারদা চিটফান্ড মামলা এবং সিবিআই-এর সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঘটনায় তিনি জাতীয় স্তরে সংবাদ শিরোনামে এসেছিলেন। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে তাঁর বাড়িতে সিবিআই হানা দেওয়াকে কেন্দ্র করে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতার রাজপথে ধরনায় বসেছিলেন, যা ভারতীয় রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব ঘটনা ছিল।
রাজীব কুমারকে প্রার্থী করায় রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিরোধী শিবিরের একাংশের কটাক্ষ, বিতর্কিত ভূমিকার জন্য এটি সম্ভবত তাঁর ‘পুরস্কার’। অন্যদিকে, শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, রাজীব কুমারের মতো একজন অভিজ্ঞ এবং দূরদর্শী প্রশাসককে সংসদের উচ্চকক্ষে পাঠানো রাজ্যের স্বার্থে অত্যন্ত সময়োচিত ও সঠিক সিদ্ধান্ত। দীর্ঘ প্রশাসনিক জীবন পেরিয়ে এবার সংসদীয় রাজনীতির আঙিনায় পা রাখতে চলেছেন তিনি। উচ্চকক্ষে তাঁর এই সম্ভাব্য অভিষেক জাতীয় রাজনীতিতে কী নতুন মাত্রা যোগ করে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।
হিন্দুস্থান সমাচার / শুভদ্যুতি দত্ত