
দক্ষিণ দিনাজপুর, ১ মার্চ (হি. স.) : দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাট শহরের উপকণ্ঠে চকবাখর গ্রামে ফের শুরু হতে চলেছে ৩০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী চঞ্চলা কালী মায়ের পুজো ও মেলা। দোলপূর্ণিমার পরের দিন, ৪ মার্চ গভীর রাতে পুজোর সূচনা। আগামী ৬ মার্চ পর্যন্ত চলবে তিনদিনের মেলা।
লোকশ্রুতি - মাহিনগরের মহি রাজার হাত ধরেই এই পুজোর প্রচলন প্রায় তিনশো বছর আগে। কথিত আছে, মাহিনগর থেকে সুড়ঙ্গপথে এসে তিনি মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর মৃত্যুর পর বেশ কিছুদিন বন্ধ থাকলেও পরবর্তীতে এক ভক্ত স্বপ্নাদেশ পাওয়ায় পুনরায় শুরু হয় আরাধনা।
উল্লেখ্য, চঞ্চলা কালী মায়ের মূর্তি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যে অনন্য। প্রচলিত রীতির বাইরে এখানে দেবীর পায়ের নীচে শিব নন, রয়েছেন অসুর ও সিংহ। দেবীর আটটি হাত, এই রূপকে মহামায়া ও চামুণ্ডার এক বিশেষ প্রকাশ হিসেবে মানেন ভক্তরা।
উদ্যোক্তারা জানান, পুজোর পাঁচ দিন আগেই ঘট স্থাপন করা হয়ে থাকে। পাঁঠা, পায়রা ও চুল বলির প্রথা রয়েছে, তবে বলি দেয় পুজো কমিটি। মন্দির সংলগ্ন পুকুরের জলে হয়ে থাকে আরাধনা। পুজোর পরদিন শ্মশান কালী ও মাশান কালীর তন্ত্রমতে পূজা হয়। নাটমন্দিরে দু’দিন ধরেই মঙ্গলচণ্ডীর গান শোনার জন্য ভিড় জমে।
মেলার অন্যতম আকর্ষণ লোকক্রীড়া ও মুখা নাচ। কাঠের পাটাতনে পুঁতে রাখা পেরেক ও খড়্গের উপর শিব–কালী সেজে নাচ পরিবেশন করেন ভক্তরা।
পুজো কমিটির সভাপতি সুপ্রিয় কুমার চৌধুরী জানিয়েছেন যে, এই পুজো শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি আমাদের লোকসংস্কৃতির ধারক ও বাহক।
হিন্দুস্থান সমাচার / শুভদ্যুতি দত্ত