
আগরতলা, ২৫ মার্চ (হি.স.) : বুধবার রাজধানী আগরতলায় ঐতিহাসিক দুর্গাবাড়ি মন্দিরে অনুষ্ঠিত হয়েছে বাসন্তী পূজা। এদিন সপ্তমী পূজা হয়।ভোরের আলো ফুটতেই মন্দির প্রাঙ্গণে ভক্তদের ঢল নামে। হাতে পূজার উপকরণ নিয়ে নারী-পুরুষসহ নানা বয়সী ভক্তরা সারিবদ্ধভাবে দেবী দর্শনের জন্য অপেক্ষা করেন। পুরোহিতরা কঠোরভাবে শাস্ত্রীয় বিধি মেনে সপ্তমী পূজার আচার সম্পন্ন করেন। মন্ত্রোচ্চারণ, শঙ্খধ্বনি ও ধূপ-ধুনোর সুবাসে মন্দির চত্বর এক আধ্যাত্মিক আবহে ভরে ওঠে, যা ভক্তদের মধ্যে ভক্তি ও শ্রদ্ধার অনুভূতি আরও গভীর করে তোলে।
‘চৈত্র দুর্গাপূজা’ নামেও পরিচিত বাসন্তী পূজা ত্রিপুরার অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় উৎসব। শরৎকালের দুর্গাপূজার তুলনায় এই পূজাকে দেবী আরাধনার আদি রূপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পুরাণ মতে, ‘মার্কণ্ডেয় পুরাণ’-এ বর্ণিত আছে যে রাজা সুরথ ও বণিক সমাধি বসন্ত ঋতুতেই প্রথম দেবী দুর্গার পূজার আয়োজন করেছিলেন, যা পরবর্তীতে বাসন্তী পূজা হিসেবে পরিচিতি পায়।
ত্রিপুরায় বাসন্তী পূজার সূচনা হয় প্রায় দেড়শো বছরেরও বেশি আগে, মাণিক্য রাজবংশের পৃষ্ঠপোষকতায়। সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় আগরতলার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত দুর্গাবাড়ি মন্দির এই উৎসবের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে আজও বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। মন্দির কমিটি প্রতিটি আচার-অনুষ্ঠান নিষ্ঠার সাথে সম্পন্ন করার মাধ্যমে এই প্রাচীন ঐতিহ্যকে অক্ষুণ্ণ রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
ষষ্ঠী থেকে শুরু হয়ে দশমী পর্যন্ত মোট পাঁচ দিনব্যাপী এই উৎসবে প্রতিদিনই বিশেষ পূজাবিধি, নৈবেদ্য নিবেদন ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালিত হয়। এর পাশাপাশি ভক্তিগীতি পরিবেশন এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে, যা উৎসবের আবহকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলছে এবং বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থীকে আকর্ষণ করছে।
২০২৬ সালের বাসন্তী পূজার নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ২৪ মার্চ ষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে উৎসবের সূচনা হয়েছে এবং আগামী ২৮ মার্চ দশমী তিথিতে এর সমাপ্তি ঘটবে। সপ্তমীর পর এখন ভক্তদের নজর অষ্টমী ও নবমীর পূজার দিকে, যা প্রতি বছরের মতোই বিশেষ গুরুত্ব সহকারে পালিত হবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ