পেট্রোল-ডিজেল ও এলপিজি সরবরাহ স্বাভাবিক, গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান খাদ্যমন্ত্রীর
আগরতলা, ২৫ মার্চ (হি.স.) : ত্রিপুরায় পেট্রোল, ডিজেল ও এলপিজি সরবরাহ নিয়ে কোনও ঘাটতি নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন খাদ্য, জনসংভরণ ও ভোক্তা বিষয়ক দফতরের মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী। বুধবার আগরতলার প্রজ্ঞা ভবনের ১ নম্বর হলে পেট্রোলিয়াম ডিলার ও এলপিজি সরবরাহক
মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী


আগরতলা, ২৫ মার্চ (হি.স.) : ত্রিপুরায় পেট্রোল, ডিজেল ও এলপিজি সরবরাহ নিয়ে কোনও ঘাটতি নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন খাদ্য, জনসংভরণ ও ভোক্তা বিষয়ক দফতরের মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী। বুধবার আগরতলার প্রজ্ঞা ভবনের ১ নম্বর হলে পেট্রোলিয়াম ডিলার ও এলপিজি সরবরাহকারী এজেন্সির প্রতিনিধিদের নিয়ে আয়োজিত পর্যালোচনা সভা ও রাজ্যস্তরের ভোক্তা সচেতনতা কর্মসূচিতে তিনি এই কথা বলেন।

সভায় মন্ত্রী পেট্রোলিয়াম পণ্যের সরবরাহ ও সুষ্ঠু বিতরণ ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহ হচ্ছে কিনা এবং সাধারণ মানুষ নির্ধারিত মূল্যে পেট্রোল, ডিজেল ও এলপিজি পাচ্ছেন কিনা—এই বিষয়গুলির ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়। ডিলার ও এজেন্সির প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে বাস্তব পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন তিনি।

পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে যাতে রাজ্যে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে কোনও ধরনের গুজব বা বিভ্রান্তি না ছড়ায়, সে বিষয়ে সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান মন্ত্রী। তিনি জানান, বর্তমানে রাজ্যে জ্বালানি সংকটের কোনও আশঙ্কা নেই। তবে ভবিষ্যতে কোনও ধরনের সমস্যা এড়াতে কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশ মেনে এলপিজি সংগ্রহের ক্ষেত্রে সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে—শহর এলাকায় ২৫ দিন এবং গ্রামীণ এলাকায় ৪৫ দিন।

এই সময়সীমা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যেন কোনও ভুল ধারণা না তৈরি হয়, সেজন্য খাদ্য দফতর, ডিলার ও এজেন্সিগুলিকে গ্রাম ও শহর এলাকায় ব্যাপক সচেতনতা কর্মসূচি গ্রহণের পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি, পেট্রোলিয়াম পণ্যের কালোবাজারি রোধে কঠোর নজরদারির নির্দেশও দেন মন্ত্রী। কোথাও যদি অতিরিক্ত মূল্যে জ্বালানি বিক্রির অভিযোগ পাওয়া যায়, তবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।

ভোক্তা সচেতনতার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষা নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। “নিরাপদ পণ্য, আত্মবিশ্বাসী ভোক্তা”—এই বছরের থিমকে সামনে রেখে ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় ও বিশ্বাস গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তিনি। সঠিক মূল্যে মানসম্পন্ন পণ্য সরবরাহের মাধ্যমে ভোক্তাদের আস্থা অর্জনের আহ্বান জানান।

সভায় খাদ্য দফতরের বিশেষ সচিব দেবপ্রিয় বর্ধন এবং অতিরিক্ত সচিব তথা অধিকর্তা সুমিত লোধ পেট্রোলিয়াম পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা ও ভোক্তাস্বার্থ সুরক্ষা নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য রাখেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম অধিকর্তা অভিজিৎ বিশ্বাসসহ দফতরের বিভিন্ন পদস্থ আধিকারিক, রাজ্যের ন্যায্যমূল্যের দোকানের প্রতিনিধিরা এবং পেট্রোলিয়াম ডিলার ও এলপিজি এজেন্সির প্রতিনিধিরা।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande