
বাসন্তী , ২৫ মার্চ (হি.স.) : গত ৪ মার্চ আচমকাই কৃষ্ণপদ মণ্ডল নামে এক বিজেপি কর্মীর বাড়িতে চড়াও হয়ে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ ওঠে স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে। সেই সময় থেকে লাগাতার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে কৃষ্ণপদ ও তাঁর পরিবারকে। বিজেপি দল করলে এলাকায় থাকা যাবে না বলে হুমকি দিচ্ছেন তৃণমূলের আসমত মোল্লা, আক্তার মোল্লা ও তাদের অনুগামীরা। ঘটনার পর থেকে যথেষ্ট আতঙ্কিত এই বিজেপি সমর্থক পরিবারটি।
বিজেপি প্রার্থীর অভিযোগ, এই কৃষ্ণপদ নিজের বাড়ির দরজায় নরেন্দ্র মোদীর ছবি সাঁটিয়েছিলেন, আর সেই কারণেই তৃণমূলের লোকজন এই আক্তার ও আসমতের নেতৃত্বে তাঁদের বাড়িতে চড়াও হয়ে হামলা চালায়। মারধর করা হয় কৃষ্ণপদর অসুস্থ স্ত্রী ও বছর দশেকের সন্তানকে। কৃষ্ণপদ বাধা দিতে গেলে তাঁকেও লোহার রড ও লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। ঘটনার পর বাসন্তী থানায় গেলে পুলিশ এ বিষয়ে কোনও অভিযোগ নিতে অস্বীকার করে। কিন্তু অভিযুক্তরা পাল্টা এই বিজেপি কর্মীদের পরিবারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বাসন্তী থানায়। কৃষ্ণপদ বলেন, “ আমরা আতঙ্কিত। বাড়ি থেকে ঠিকমত বের হতে পারছি না। ছেলে টিউশানি পড়তে গেলে রাস্তায় ধরে হুমকি দিচ্ছে। বাড়িতে এসে শাসিয়ে যাচ্ছে।”
বুধবার জ্যোতিষপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ভোটের প্রচারে গিয়ে বাসন্তী বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী বিকাশ সর্দার পৌঁছন কৃষ্ণপদর বাড়িতে। কথা বলেন পরিবারের সঙ্গে। পাশে থাকার বার্তাও দেন। তিনি বলেন, “ বিজেপি দল করার অপরাধে এই পরিবারের উপর হামলা হয়েছে। বাড়িঘর ভাংচুর করা হয়েছে। জলের লাইন ভেঙে দেওয়া হয়েছে। অথচ পুলিশ এঁদের অভিযোগ না নিয়ে পাল্টা তৃণমূলের কথায় এঁদের বিরুদ্ধেই অভিযোগ নিয়েছে। সন্ত্রাস চলছে বাসন্তী জুড়ে। এ বিষয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে বিষয়টি জানাবো। যারা এই অত্যাচার করেছে তাদের একজনকেও ছাড়া হবে না।” এ প্রসঙ্গে বাসন্তীর তৃণমূল নেতা রাজা গাজী বলেন, “ এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তৃণমূলকে বদনাম করতে বিজেপি মিথ্যা অভিযোগ করছে। এটা বিজেপির গোষ্ঠী কোন্দলের ফলে ঘটে থাকতে পারে। পুলিশ তদন্ত করে দেখুক।”
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / পার্সতি সাহা