
আমবাসা (ত্রিপুরা), ২৫ মার্চ (হি.স.) : ত্রিপুরা ট্রাইবাল এরিয়াস অটোনমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল (টিটিএএডিসি) নির্বাচনকে সামনে রেখে ধলাই জেলার লংতরাইভ্যালিতে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। বুধবার সেখানে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-এর পক্ষ থেকে আয়োজিত জনসভায় জনজাতি সম্প্রদায়ের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি নজর কাড়ে। দলীয় প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগে আয়োজিত এই সমাবেশ কার্যত নির্বাচনী শক্তি প্রদর্শনের মঞ্চে পরিণত হয়।
বিজেপি-এর স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি, জনজাতি অধ্যুষিত এলাকায় দলের প্রতি মানুষের আস্থা আগের যেকোনও সময়ের তুলনায় অনেক বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। তাঁদের কথায়, টিটিএএডিসি-এর সার্বিক উন্নয়ন, স্বচ্ছ প্রশাসন এবং জনমুখী প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতিতেই সাধারণ মানুষের এই বিপুল সমর্থন প্রতিফলিত হয়েছে। সমাবেশে উপস্থিত নেতারা তিপ্রা মথা পরিচালিত বর্তমান টিটিএএডিসি প্রশাসনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও উন্নয়ন ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে তীব্র সমালোচনা করেন।
এদিন বিজেপি-এর মনোনীত তিন প্রার্থী—বিপিন দেববর্মা (দামছড়া-কাচুছড়া আসন), সুকেশ দত্ত বড়ুয়া (মনু-ছৈলেংটা আসন) এবং এসমেল জয় ত্রিপুরা (ছাওমনু আসন)—উৎসবমুখর পরিবেশে লংতরাইভ্যালির সাব-ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট তথা রিটার্নিং অফিসারের কাছে তাঁদের মনোনয়নপত্র জমা দেন। মনোনয়ন জমা দেওয়ার আগে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়, যা সমগ্র এলাকা জুড়ে নির্বাচনী আবহকে আরও তীব্র করে তোলে।
এই সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা। তিনি জনতার ব্যাপক সাড়া প্রত্যক্ষ করে আশা ব্যক্ত করেন যে, আসন্ন নির্বাচনে বিজেপি ভালো ফল করবে। তাঁর বক্তব্যে উন্নয়ন, শান্তি ও স্থিতিশীলতার বার্তা গুরুত্ব পায়।
এবারের টিটিএএডিসি নির্বাচনে বিজেপি এককভাবে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা দলীয় কর্মী ও বিশেষ করে জনজাতি মোর্চার মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘদিন ধরে এককভাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার যে প্রত্যাশা ছিল, তা পূরণ হওয়ায় তৃণমূল স্তরের কর্মীরা সক্রিয়ভাবে প্রচারে নেমেছেন।
অন্যদিকে, তিপ্রা মথা শাসিত টিটিএএডিসি-তে দুর্নীতি, প্রশাসনিক অদক্ষতা এবং উন্নয়নমূলক কাজের অভাব নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে বলে দাবি বিজেপি-এর। নির্বাচন ঘনিয়ে আসতেই তিপ্রা মথার একাধিক নেতা ও কর্মীর বিজেপিতে যোগদান রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
আগামী ১২ এপ্রিল টিটিএএডিসি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং ১৭ এপ্রিল ভোট গণনা সম্পন্ন হবে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এবারের নির্বাচন অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে চলেছে, কারণ রাজ্যের প্রায় সবকটি প্রধান রাজনৈতিক দলই পৃথকভাবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। ফলাফল ত্রিপুরার জনজাতি রাজনীতির ভবিষ্যৎ দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে দাবি রাজনৈতিক মহলের।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ