
কল্যাণপুর (ত্রিপুরা), ২৫ মার্চ (হি.স.) : গ্রীষ্মের আগমনের সাথে সাথেই খোয়াই জেলার কল্যাণপুর ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকায় দেখা দিয়েছে তীব্র জলসংকট। বিশেষ করে পশ্চিম দ্বারিকাপুর পঞ্চায়েতের অন্তর্গত কল্যাণপুর বাজার এলাকায় এক সপ্তাহ ধরে পানীয় জলের চরম অভাব তৈরি হয়েছে, যার ফলে কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকারের ‘জল জীবন মিশন’ প্রকল্পের আওতায় এলাকা অন্তর্ভুক্ত থাকলেও বাস্তবে তার সুফল মিলছে না। পাইপলাইনের মাধ্যমে জল সরবরাহের জন্য ব্যবহৃত মূল পাম্পটি দীর্ঘদিন ধরে অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট দফতরের পক্ষ থেকে মাঝে মধ্যে মেরামতির কাজ করা হলেও তা সাময়িক সমাধান ছাড়া আর কিছুই নয় বলে অভিযোগ। ফলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান অধরাই রয়ে গেছে।
জলসংকটের কারণে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এলাকার বাসিন্দারা। পানীয় জল সংগ্রহ করতে গিয়ে তাদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। রান্নাবান্না, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা থেকে শুরু করে দৈনন্দিন গৃহস্থালির নানা কাজ ব্যাহত হচ্ছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে জলের চাহিদা বাড়লেও সরবরাহ না থাকায় পরিস্থিতি দিন দিন আরও সংকটজনক হয়ে উঠছে।
বর্তমানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জলবাহী ট্যাঙ্কারের মাধ্যমে জল সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে সেই সরবরাহ প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। অভিযোগ, দিনে মাত্র একবার অল্প সময়ের জন্য ট্যাঙ্কার আসে এবং কখন আসবে তারও নির্দিষ্ট সময়সূচি নেই। ফলে ভোর থেকেই জল পাওয়ার আশায় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে মানুষকে। অনেক ক্ষেত্রে জল বণ্টনকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে বচসা ও উত্তেজনার ঘটনাও ঘটছে।
এই পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা অবিলম্বে সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্য, পাম্পটি দ্রুত মেরামত করে নিয়মিত জল সরবরাহ চালু করতে হবে। পাশাপাশি অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে প্রতিদিন অন্তত দু’বার জলবাহী ট্যাঙ্কার পাঠানোরও দাবি তোলা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে সহকারী প্রকৌশলী সুমন দেব জানিয়েছেন, পাম্পের মোটরে বারবার বৈদ্যুতিক ত্রুটি দেখা দেওয়ার কারণেই জল সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি ইতিমধ্যে বিদ্যুৎ নিগমের নজরে আনা হয়েছে এবং সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে। তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় ট্যাঙ্কারের মাধ্যমে দিনে দু’বার জল সরবরাহের চেষ্টা করা হচ্ছে।
তবে স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে গ্রীষ্মের তীব্রতার সঙ্গে সঙ্গে জলসংকট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। তাই অবিলম্বে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি ক্রমশ জোরালো হয়ে উঠছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ