(রাউন্ড আপ) ভক্তি ও সম্প্রীতির আবহে বাংলায় রামনবমী : সম্প্রীতির নজির হাওড়ায়, নন্দীগ্রামে ‘রামরাজ্য’ গড়ার ডাক শুভেন্দুর
কলকাতা, ২৭ মার্চ (হি.স.): চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষের নবমী তিথিতে শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালিত হলো ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের জন্মোৎসব। কলকাতা থেকে জেলা—সর্বত্রই ধরা পড়ল ভক্তি ও আনন্দের ছবি। কোথাও অস্ত্র মিছিল
বাংলায় রামনবমী


কলকাতা, ২৭ মার্চ (হি.স.): চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষের নবমী তিথিতে শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালিত হলো ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের জন্মোৎসব। কলকাতা থেকে জেলা—সর্বত্রই ধরা পড়ল ভক্তি ও আনন্দের ছবি। কোথাও অস্ত্র মিছিল, কোথাও বর্ণাঢ্য কলসযাত্রা, আবার কোথাও সম্প্রীতির অনন্য নজির স্থাপন করে পালিত হলো এই পুণ্যতিথি। রাজনৈতিক নেতা থেকে সাধারণ মানুষ—রামলালার আরাধনায় শামিল হলেন সকলেই।

রামনবমীর আবহে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য নজির সৃষ্টি হলো হাওড়ায়। শুক্রবার দুপুরে খটিক সমাজের উদ্যোগে হাওড়া স্টেশন সংলগ্ন গোলমোহর ময়দান থেকে ঐতিহ্যবাহী ‘শস্ত্র’ (অস্ত্র) শোভাযাত্রা বের হয়। মিছিলটি যখন পিলখানা ও সালকিয়া সহ মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলি পরিক্রমা করছিল, তখন পথের ধারে দাঁড়িয়ে থাকা মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষজন মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের স্বাগত জানান। শুধু পুরুষরাই নন, মুসলিম মহিলারাও এগিয়ে এসে রামভক্তদের হাতে ঠান্ডা পানীয়, শরবত ও মিষ্টি তুলে দেন। অনেক জায়গায় তাঁদের মালা পরিয়ে শুভেচ্ছা জানাতেও দেখা যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায়, “ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। ঈদ বা মহরমে যেমন হিন্দু ভাইরা পাশে থাকেন, তেমনই রামনবমীতে আমরাও তাঁদের স্বাগত জানিয়েছি।”

পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে রামনবমীর এক বিশাল শোভাযাত্রায় অংশ নেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন জয় শ্রীরাম ধ্বনিতে মুখরিত নন্দীগ্রামে তিনি দাবি করেন, “এবারের পরিবেশ অন্যরকম। হিন্দুরা জেগে উঠেছে এবং সবাই একজোট হয়েছে। এখানে রামরাজ্য প্রতিষ্ঠিত হবেই।” উল্লেখ্য, দীর্ঘ ৮ বছর পর এই এলাকায় এত বড় আকারে শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হলো।

শিলিগুড়িতে রামনবমীর সকালে আধ্যাত্মিক মেজাজে ধরা দিলেন তৃণমূল প্রার্থী গৌতম দেব। তিনি মাল্লাগুড়ির শ্রী সংকটমোচন হনুমান মন্দির এবং দার্জিলিং মোড়ের ত্রিকালদর্শী মন্দিরে গিয়ে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও পুজো দেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি প্রার্থনা জানান, “পুরুষোত্তম ভগবান শ্রী রামচন্দ্রের কাছে প্রার্থনা—সত্য ও ধর্মের জয় হোক। অশুভের বিনাশে শুভ শক্তির জয়ধ্বনিতে ধ্বনিত হোক বাংলার এই পুণ্যভূমি।” এছাড়া ৩ নম্বর ওয়ার্ডে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে লাড্ডু বিতরণ করতেও দেখা যায় তাঁকে।

মালদা শহরের ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের কুলিপাড়া এলাকায় প্রতি বছরের মতো এবারও বর্ণাঢ্য কলসযাত্রা ও হরিনাম সংকীর্তনের আয়োজন করা হয়। রামকৃষ্ণ মিশন সংলগ্ন মহানন্দা নদীর ঘাট থেকে শুরু হওয়া এই শোভাযাত্রায় অংশ নেন তৃণমূল প্রার্থী আশিস কুণ্ডু ও কাউন্সিলর কাকলি কর্মকার।

অন্যদিকে, পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটালে তৃণমূল প্রার্থীর সমর্থনে প্রচারে নেমে কুশপাতা এলাকার রাম মন্দিরে পুজো দেন সাংসদ দীপক অধিকারী (দেব)। পুজো দেওয়ার পর তাঁকে ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দিতেও শোনা যায়। পরে তিনি ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের কাজ পরিদর্শন করে উন্নয়নের বার্তা দেন।

বাঁকুড়ায় সমস্ত আশঙ্কা উড়িয়ে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে রামনবমীর বিশাল শোভাযাত্রা। পাঁচবাগা ময়দান থেকে শুরু হওয়া এই মিছিলে রামললা, ছত্রপতি শিবাজি ও ভারতমাতার ট্যাবলো নজর কাড়ে। বহু শিশুকে রাম ও হনুমান সেজে মিছিলে হাঁটতে দেখা যায়। প্রশাসনের নির্ধারিত রুটেই কয়েক হাজার মানুষের উপস্থিতিতে এই উৎসব উদযাপিত হয়।

একই ছবি দেখা গেছে হুগলির আরামবাগ মহকুমাতেও। খানাকুল, গোঘাট ও পুড়শুড়া সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় বিকেলের পর বড় বড় মিছিল বের হয়। এই উৎসবকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ও বিজেপি—উভয় দলের নেতা-কর্মীদেরই সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে দেখা গেছে।

রাজ্যের স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ প্রশাসনের কড়া নজরদারি ছিল। ড্রোনের মাধ্যমেও বিভিন্ন জায়গায় নজরদারি চালানো হয়। ছোটখাটো কিছু বিতর্ক বাদ দিলে সামগ্রিকভাবে বাংলায় এবারের রামনবমী ভক্তি, উৎসাহ এবং সামাজিক ঐক্যের এক বৃহত্তর মঞ্চ হয়ে উঠেছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande