
আরামবাগ, ২৭ মার্চ (হি.স.): গ্রামের মাটিতে বেড়ে ওঠা ছোট্ট এক স্বপ্ন—আর সেই স্বপ্নই আজ ছুঁয়ে ফেলেছে আন্তর্জাতিক সাফল্যের আকাশ। গোঘাটের অদিতি ঘোষ এখন শুধু একটি নাম নয়, একটি অনুপ্রেরণা। রঙ-তুলির জাদুতে সে জয় করে নিয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্কন প্রতিযোগিতার প্রথম স্থান, পেয়েছে ‘অঙ্কন রত্ন’ সম্মান এবং সোনার গণেশ পুরস্কার।
অল বেঙ্গল আর্ট সোসাইটি আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বি বিভাগে অংশ নিয়ে অদিতির এই সাফল্য গোটা গোঘাটে এনে দিয়েছে উৎসবের আবহ। বিভিন্ন দেশের প্রতিযোগীদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তার স্বতন্ত্র শিল্পভাবনা বিচারকদের মুগ্ধ করেছে।
বর্তমানে রঘুবাটী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী অদিতি। বয়স অল্প হলেও তার কল্পনার পরিধি বিস্তৃত। মাত্র তিন বছর বয়স থেকেই রঙের সঙ্গে বন্ধুত্ব তার। যখন সমবয়সীরা খেলায় ব্যস্ত, তখনই কাগজে নিজের ভাবনাকে রঙে ফুটিয়ে তুলতে শুরু করেছিল সে। পরিবারের উৎসাহ আর গ্রামের এক শিক্ষকের হাত ধরে সেই আগ্রহ ধীরে ধীরে রূপ নেয় দক্ষতায়।
অদিতির বাবা একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, মা গৃহবধূ। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও মেয়ের স্বপ্নকে থামতে দেননি তাঁরা। বরং প্রতিটি পদক্ষেপে পাশে থেকে সাহস জুগিয়েছেন। পরিবারের এই নিরবিচ্ছিন্ন সমর্থনই অদিতির সাফল্যের ভিত শক্ত করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অদিতির আঁকায় প্রকৃতি, আবেগ এবং রঙের ব্যবহার এক অনন্য ভারসাম্য তৈরি করে। এত কম বয়সে এমন পরিণত শিল্পবোধ বিরল—এমনটাই মত তাঁদের।
বৃহস্পতিবার রাতে সংবাদিকের মুখোমুখি হয়ে অদিতি তার অনুভূতি ভাগ করে নেয়। লাজুক হাসিতে সে জানায়, “আমি বড় হয়ে একজন শিল্পী হতে চাই। আমার আঁকা যেন সবার ভালো লাগে, সেটাই চাই।”
অদিতির এই সাফল্যে গোঘাট জুড়ে গর্ব আর আনন্দের ঢেউ। অনেকেই মনে করছেন, এই ছোট্ট প্রতিভাই একদিন বড় মঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্ব করবে। গ্রামবাংলার মাটি থেকে উঠে আসা এই সাফল্যের গল্প আবারও মনে করিয়ে দেয়। সঠিক দিশা, পরিশ্রম আর স্বপ্ন থাকলে সীমাবদ্ধতা কোনও বাধা নয়। অদিতির তুলিতে সেই স্বপ্নই আজ রঙিন হয়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক মঞ্চে।
হিন্দুস্থান সমাচার / SANTOSH SANTRA