
কলকাতা, ২৭ মার্চ (হি.স.) : চিকিৎসা বিজ্ঞানে অসাধ্যসাধনের এক অনন্য নজির সৃষ্টি করল কলকাতার সরোজ গুপ্ত ক্যান্সার সেন্টার অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট। ডায়াবেটিস, থাইরয়েড ও উচ্চ কোলেস্টেরলের মতো একাধিক বার্ধক্যজনিত শারীরিক জটিলতা থাকা সত্ত্বেও ৬৭ বছরের এক প্রবীণা দুই ধরনের ঘাতক ক্যান্সারকে হারিয়ে নতুন জীবন ফিরে পেয়েছেন। দীর্ঘ তিন বছরের লড়াই ও নিয়মিত চিকিৎসার পর তিনি এখন সম্পূর্ণ সুস্থ।২০২১ সালের নভেম্বর মাসে ডান স্তনে একটি টিউমার এবং পেটে অস্বাভাবিক ফোলাভাব অনুভব করায় ওই প্রবীণা চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ধরা পড়ে তিনি ‘ট্রিপল নেগেটিভ ব্রেস্ট ক্যান্সার’-এ আক্রান্ত, যা অত্যন্ত আগ্রাসী প্রকৃতির। একইসঙ্গে তাঁর শরীরে ‘অ্যাডভান্সড স্টেজ’ বা উন্নত পর্যায়ের ডিম্বাশয়ের ক্যান্সারও শনাক্ত হয়। শরীরের দুটি ভিন্ন অঙ্গে একসঙ্গে ক্যান্সার ধরা পড়ায় চিকিৎসকরা জেনেটিক কারণ সন্দেহ করেন এবং পরীক্ষায় ‘BRCA1’ মিউটেশন ধরা পড়ে।এরপরই শুরু হয় সরোজ গুপ্ত ক্যান্সার সেন্টারের চিকিৎসকদের দীর্ঘ ও পরিকল্পিত লড়াই। প্রথমে কেমোথেরাপির মাধ্যমে টিউমারের আকার ছোট করা হয়। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে একটি বড় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁর দুটি স্তনই অপসারণ করা হয় (যার একটি ছিল ভবিষ্যৎ ঝুঁকি এড়াতে প্রতিরোধমূলক)। অস্ত্রোপচার পরবর্তী রিপোর্টে দেখা যায়, ব্রেস্ট ক্যান্সারের চিকিৎসায় শরীর ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে।এরপর পুনরায় কেমোথেরাপি শুরু হয় এবং জুন ২০২২-এ জরায়ু, ডিম্বাশয় ও আক্রান্ত টিস্যু অপসারণের জন্য দ্বিতীয়বার বড় অস্ত্রোপচার করা হয়। জেনেটিক রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে তাঁকে ‘ওলাপারিব’ নামক আধুনিক লক্ষ্যভিত্তিক ) চিকিৎসা দেওয়া শুরু হয়।চিকিৎসার ফলাফল অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। বর্তমানে তাঁর ‘ক্যান্সার মার্কার’ স্বাভাবিক এবং বিগত তিন বছরের ফলো-আপে ক্যান্সারের পুনরাবৃত্তির কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ২০২৬ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত পাওয়া তথ্যানুযায়ী, তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্থিতিশীল রয়েছেন।সরোজ গুপ্ত ক্যান্সার সেন্টার অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের চিকিৎসকরা জানান, “উন্নত পর্যায়ের ক্যান্সার হলেও সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয়, আধুনিক সমন্বিত চিকিৎসা এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণ থাকলে সুস্থ হওয়া সম্ভব। এই ক্ষেত্রে জেনেটিক পরীক্ষা এবং নির্দিষ্ট রোগীর জন্য তৈরি ‘ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিকিৎসা’ -র গুরুত্ব আবারও প্রমাণিত হলো।”এই সাফল্য কেবল ওই প্রবীণার একার নয়, বরং ক্যান্সার আক্রান্ত হাজারো মানুষের কাছে এক শক্তিশালী আশার বার্তা। সঠিক চিকিৎসা ও মানসিক দৃঢ়তা থাকলে যে মারণব্যাধিকেও জয় করা সম্ভব, তা আবারও প্রতিষ্ঠিত হলো।
হিন্দুস্থান সমাচার / শুভদ্যুতি দত্ত