সিনিয়র মহিলা দল ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়েই ফিফা সিরিজে নামছে ব্লু - টাইগ্রেসরা
নয়াদিল্লি, ১০ এপ্রিল (হি.স.) : এএফসি মহিলা এশিয়ান কাপ অভিযানের হতাশাজনক সমাপ্তির ঠিক ৩২ দিন পর, নতুন উদ্যমে এক নতুন অধ্যায় শুরু করতে চলেছে ভারতীয় মহিলা ফুটবল দল। ফিফা সিরিজ ২০২৬ (কেনিয়া)-তে শনিবার, ১১ এপ্রিল, নাইরোবির নিয়ায়ো ন্যাশনাল স্টেডিয
নাইরোবিতে ভারত


নয়াদিল্লি, ১০ এপ্রিল (হি.স.) : এএফসি মহিলা এশিয়ান কাপ অভিযানের হতাশাজনক সমাপ্তির ঠিক ৩২ দিন পর, নতুন উদ্যমে এক নতুন অধ্যায় শুরু করতে চলেছে ভারতীয় মহিলা ফুটবল দল। ফিফা সিরিজ ২০২৬ (কেনিয়া)-তে শনিবার, ১১ এপ্রিল, নাইরোবির নিয়ায়ো ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে (ভারতীয় সময় রাত ৭:৩০) আয়োজক কেনিয়ার বিরুদ্ধে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলবে ব্লু - টাইগ্রেসরা, তাকিয়ে গোটা দেশ।

এদিকে, গ্রুপ পর্ব পেরোতে না পারার আক্ষেপ এখনও পুরোপুরিভাবে মুছে যায়নি। তবে দল জানে, এক অধ্যায়ের শেষই অন্য শুরুর পথ খুলে দেয় - আর সেটা এই চার দলের প্রীতি প্রতিযোগিতার আগে তাদের বড় প্রেরণা।

এক প্রতিক্রিয়ায় দলের প্রধান কোচ ক্রিস্পিন চেত্রী এদিন বললেন, - “এখন থেকেই ভবিষ্যতের জন্য দল গড়ার কাজ শুরু করতে হবে। ২০২৯ সালের এশিয়ান কাপ কোয়ালিফায়ার এবং ২০৩১ বিশ্বকাপের বাছাই - এখন থেকেই সবকিছুর প্রস্তুতি। ”

উল্লেখ্য, গত বছর ভারতকে এশিয়ান কাপে তোলার পিছনে বড় ভূমিকা ছিল চেত্রীর। ফাইনাল পর্বে তিনি আমেলিয়া ভালভার্দের সহকারী ছিলেন।

চেত্রীর কথায়, “সকলেরই প্রত্যাশা ছিল অন্তত কোয়ার্টার ফাইনালে উঠবে আমরা । খেলোয়াড়দের মধ্যেও সেই প্রত্যাশা ছিল, তাই মানসিকভাবে কিছুটা নিচে আছে তারা।”

প্রসঙ্গতঃ ৭ এপ্রিল নাইরোবিতে পৌঁছে ভারত ইতিমধ্যেই দু’টি অনুশীলন সেরে ফেলেছে। শুক্রবার আর একটি সেশন হল এদিন ম্যাচের আগেই।

“মানসিকভাবে এখন অনেকটাই প্রস্তুত ওরা। অনুশীলনে নামলেই শুধু পরের ম্যাচের দিকেই রয়েছে মন - এদিন বলেন চেত্রী।

আবহাওয়াও সহায়ক। “প্রায় ২৬-২৭ ডিগ্রি তাপমাত্রা, অনুশীলনের জন্য একদম উপযুক্ত,” - মন্তব্য কোচের।

এই ফিফা সিরিজে ভারত, কেনিয়া, মালাওয়ি এবং অস্ট্রেলিয়া অংশগ্রহণ করছে। প্রথম সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়া খেলবে মালাওয়ির বিরুদ্ধে (ভারতীয় সময় বিকেল ৪:৩০), আর দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ভারতের প্রতিপক্ষ কেনিয়া। বিজয়ীরা খেলবে ফাইনাল, পরাজিতরা তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে নামবে ১৫ এপ্রিল। আফ্রিকার মাটিতে এই প্রথম খেলতে নামছে ভারতীয় মহিলা দল।

অন্যদিকে, ফলাফলের বাইরেও এই প্রতিযোগিতার কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে। আগামী ২৫ মে গোয়ায় শুরু হতে চলেছে সাফ মহিলা চ্যাম্পিয়নশিপ। এর প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই দল গঠন করা হয়েছে - যেখানে বর্তমান ফিটনেস ও ভবিষ্যতের পরিকল্পনা, দুইটি বিষয় মাথায় রাখা হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে চেত্রী বেছে নিয়েছেন তুলনামূলক তরুণ দল। চোট ও পুনর্বাসনের কারণে বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ ফুটবলার অনুপস্থিত। ২২ জনের স্কোয়াডের গড় বয়স মাত্র ২২.৮। এশিয়ান কাপের ২৬ জনের দল থেকে ১৭ জন রয়েছেন এই সফরে। বাকি খেলোয়াড়দের মধ্যে গোলকিপার পন্থোই চানু এলাংবাম ও ডিফেন্ডার সুইটি দেবী এনগাংবাম চোট সারাচ্ছেন। সঞ্জু, সঙ্গীতা বাসফোর, গ্রেস ডাংমেই ও সৌম্যা গুগুলোথকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, পেরুর ক্লাব আলিয়ানজা লিমায় খেলা শুরু করা আক্রমণভাগের খেলোয়াড় মনীষাকেও ক্লাবেই থাকার পরামর্শ দিয়েছেন কোচ।

চেত্রী বলেন, “ওর লিগ শুরু হয়েছে, তাই ওকে বলেছি ক্লাবে থেকেই প্রথম একাদশে জায়গা পাকা করার দিকে মন দিতে। অনেক ভ্রমণ হয়েছে ওর, তাই ক্লাবেই থাকা ভালো।”

সিনিয়রদের অনুপস্থিতিতে সুযোগ পাচ্ছে নতুন প্রজন্ম। চেত্রীর লক্ষ্য, দীর্ঘমেয়াদি বড় খেলোয়াড় ভাণ্ডার তৈরি করা।

তিনি বলেন, “কাবিয়া পাক্কিরিসামি, জাসোদা মুন্ডা, মালবিকা পি - এই ধরনের তরুণদের দেখার এটাই সুযোগ। বেশিরভাগের বয়স ২২-২৩, আগামী ৬-৭ বছর দেশের হয়ে খেলতে পারবে। আমরা প্রায় ৪০ জন প্রতিযোগিতামূলক খেলোয়াড়ের একটি পুল তৈরি করতে চাই।”

তিনি আরও বলেন, “কম সময় অনুশীলন ছিল, তাই ফিট খেলোয়াড়দের বেছে নিতে হয়েছে। সেতু, শ্রীভূমি, ইস্টবেঙ্গলের মতো ক্লাব থেকে আসা খেলোয়াড়রা নিয়মিত অনুশীলনে ছিল। পুলিশ দলের খেলোয়াড়রাও এসেছে, কারণ সম্প্রতি অল ইন্ডিয়া পুলিশ চ্যাম্পিয়নশিপ হয়েছে।”

মাঠে এবার অন্য রকম চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দলগুলোর তুলনায় কেনিয়া ও মালাওয়ি অনেক বেশি শারীরিক শক্তিনির্ভর।

চেত্রী বলেন, “র্যাঙ্কিং সব সময় বাস্তব চিত্র দেখায় না। কেনিয়ার অনেক খেলোয়াড় ইউরোপ ও আমেরিকায় খেলে। ওরা দ্রুত, শক্তিশালী এবং খুব শারীরিক ফুটবল খেলে। আমাদের সেই চ্যালেঞ্জ সামলাতে হবে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “যদি আমরা জিতি, তাহলে হয়তো অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হব - যারা এশিয়ান কাপের ফাইনালিস্ট ছিল। দারুণ সুযোগ।”

দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যও স্পষ্ট -

“আমরা অনেকদিন পর এশিয়ান কাপে উঠেছি, সেটাকে অভ্যাসে পরিণত করতে চাই। স্বল্পমেয়াদে র্যাঙ্কিং উন্নত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতের বাছাইপর্বে সুবিধা হয়।”

এই পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ যুব খেলোয়াড়দের তুলে আনা। অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপে ভারতের পারফরম্যান্স নজরে রেখেছেন চেত্রী।

তিনি বলেন, “অনূর্ধ্ব-২০ দল থেকে তিন-চারজন খুব শিগগিরই সিনিয়র দলে জায়গার জন্য লড়াই করবে—শুধু স্কোয়াডে নয়, প্রথম একাদশেও।”

নাইরোবিতে মাঠে নামার সঙ্গে সঙ্গে ভারতের লক্ষ্য শুধু জয় নয় - নতুন করে গড়ে ওঠা, বিকল্প শক্তি যাচাই, এবং ভবিষ্যতের পথ নির্মাণ—যা সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ, এশিয়ান কাপ ও বিশ্বকাপ বাছাইয়ের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে ব্লু টাইগ্রেসদের।

হিন্দুস্থান সমাচার / শুভদ্যুতি দত্ত




 

 rajesh pande