
পশ্চিম বর্ধমান / কোচবিহার, ১৬ এপ্রিল ( হি. স.) : পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী উত্তাপ চরমে। বৃহস্পতিবার রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ভোট প্রচারে অংশ নিলেন বিজেপির দুই হেভিওয়েট নেতা—উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এবং অসমের মুখ্যমন্ত্রী ডঃ হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। দুই নেতাই তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে তীব্র আক্রমণ করে রাজ্যে ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকার গঠনের ডাক দেন।
বৃহস্পতিবার পশ্চিম বর্ধমানের বারাবনি এবং আসানসোল এলাকায় নির্বাচনী জনসভা করেন উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। বারাবনির বিজেপি প্রার্থী অরিজিৎ রায়ের সমর্থনে আয়োজিত সভায় যোগী দাবি করেন, গত ১৫ বছরে তৃণমূল কংগ্রেস বাংলাকে পরিচয় সংকটে ফেলেছে।
যোগী আদিত্যনাথ বলেন, বাংলা একসময় দেশকে পথ দেখাত, কিন্তু আজ একে অপরাধের রাজধানীতে পরিণত করা হয়েছে। বালি মাফিয়া, কয়লা মাফিয়া এবং জমি মাফিয়ার জন্ম দিয়েছে তৃণমূল। মোদীজি দিল্লি থেকে যে উন্নয়নের টাকা পাঠান, তৃণমূলের গুন্ডারা তা আত্মসাৎ করে। তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে এই গুন্ডা-মাফিয়ারা রাস্তায় ঝাড়ু দেবে এবং আপনাদের তোষামোদ করবে।
নিজের রাজ্যের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, নয় বছর আগে উত্তর প্রদেশেও একই নৈরাজ্য ছিল। কিন্তু বিজেপি সরকার আসার পর সেখানে দাঙ্গা বন্ধ হয়েছে এবং মাফিয়াদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে গরিবদের ঘর তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে। যোগীর কথায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাম নাম এবং দুর্গাপূজায় বিরক্ত হন। কিন্তু মোদীজি থাকলে সব সম্ভব। আজ অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মিত হয়েছে এবং কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বিলুপ্ত করে ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।
এদিকে কোচবিহার ও শিলিগুড়িতে ঝোড়ো প্রচার সারলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। কোচবিহারের সভায় তিনি দাবি করেন, এবার বাংলায় নিশ্চিতভাবে বিজেপি সরকার গঠন করবে।
সম্প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে মাছ ও মাংস নিষিদ্ধ করে দেবে। এর পাল্টায় হিমন্ত বলেন, মমতা জি ভয় দেখাচ্ছেন যে বিজেপি এলে মাংস নিষিদ্ধ হবে। কিন্তু অসম বা বিহারে বিজেপি সরকার থাকলেও সেখানে মাংস নিষিদ্ধ নয়। এমনকি মা কামাখ্যার মন্দিরেও পশু বলির প্রথা রয়েছে। আসলে ওঁর ভয় মাংস নিয়ে নয়, ওঁর ভয় হলো বিজেপি ক্ষমতায় এলে রাজ্যে ‘গাে-পাচার’ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে।
অনুপ্রবেশ ইস্যুতে তৃণমূলকে বিঁধে তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলাদেশিদের অনুপ্রবেশে বাধা দিতে দেন না। পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তে কাঁটাতারের বেষ্টনী দেওয়া জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে অত্যন্ত জরুরি। পরে শিলিগুড়ির খড়িবাড়িতে ফাঁসিদেওয়ার প্রার্থী দুর্গা মুর্মুর সমর্থনেও একটি বিশাল জনসভায় ভাষণ দেন তিনি।
বিজেপির এই দুই শীর্ষ নেতার সফর ঘিরে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গে রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে। একদিকে যোগী আদিত্যনাথ যখন হিন্দুত্ব এবং মাফিয়া দমনের বার্তা দিয়ে ভোটারদের উজ্জীবিত করার চেষ্টা করছেন, অন্যদিকে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা অনুপ্রবেশ এবং গরু পাচারের মতো সংবেদনশীল ইস্যুগুলিকে সামনে রেখে শাসকদলকে চাপে রাখছেন।
দুই নেতার মতেই, বাংলার হৃত গৌরব পুনরুদ্ধার এবং কৃষকদের ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে রাজ্যে বিজেপি সরকার আসা সময়ের অপেক্ষা।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি