
নয়াদিল্লি, ১৯ এপ্রিল (হি.স.): পশ্চিম এশিয়ায় চলা ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেও দেশে পেট্রোল, ডিজেল ও রান্নার গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে বলে রবিবার জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত পেট্রো পণ্য বা সিলিন্ডার মজুত না করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে, ভারতীয় দুটি জাহাজে গুলিবর্ষণের ঘটনায় ইরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত।
পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের মতে, দেশে জ্বালানি সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে বিস্তৃত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ১৮ এপ্রিল একদিনেই ৫৩.৫ লক্ষের বেশি এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ করা হয়েছে। বর্তমানে এলপিজি বুকিংয়ের ৯৮ শতাংশই অনলাইনে হচ্ছে এবং কোথাও ঘাটতির খবর নেই।
বাণিজ্যিক এলপিজির সরবরাহ আগের অবস্থার প্রায় ৭০ শতাংশে ফিরেছে। হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিল্পক্ষেত্রকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি, শ্রমিকদের জন্য ৫ কেজির ছোট সিলিন্ডারের সরবরাহ দ্বিগুণ করা হয়েছে।
প্রাকৃতিক গ্যাসের ক্ষেত্রেও সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। পিএনজি ও সিএনজি গ্রাহকদের ১০০ শতাংশ পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে। মার্চ ২০২৬ থেকে এখনও পর্যন্ত ৪.৮৫ লক্ষের বেশি নতুন পিএনজি সংযোগ দেওয়া হয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, সব পরিশোধনাগার পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ করছে এবং কাঁচা তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। পেট্রোল-ডিজেলের দামও স্থিতিশীল রাখা হয়েছে, উপরন্তু গ্রাহকদের স্বস্তি দিতে উৎপাদন শুল্কে লিটার প্রতি ১০ টাকা কমানো হয়েছে।
এদিকে, ভারতীয় পতাকাবাহী তেলবাহী জাহাজ ‘দেশ গরিমা’ ৩১ জন নাবিক নিয়ে নিরাপদে হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে গেছে এবং ২২ এপ্রিল মুম্বই পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
মজুতদারি ও কালোবাজারি রুখতে দেশজুড়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ১৮ এপ্রিল ২৪০০-র বেশি জায়গায় অভিযান চালানো হয়েছে।
অন্যদিকে, বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলে ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবরকম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং ভারতীয় মিশনগুলি ২৪ ঘণ্টা সহায়তা দিচ্ছে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য