
পশ্চিম মেদিনীপুর, ১৯ এপ্রিল (হি.স.): বেলদার বিজয় সংকল্প সভা থেকে তৃণমূলের তীব্র সমালোচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী| তাঁর দাবি, ১৫ বছরে তৃণমূলের নির্মম সরকার স্কুল শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি, মিড-ডে মিলে দুর্নীতি, ঝড়ের ত্রাণে লুট করেছে| তৃণমূল লুটে পিএইচডি করে নিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, তৃণমূলের নির্মমতার ১৫ বছর হয়ে গিয়েছে। এই ১৫ বছরে নতুন নতুন শহর হয়ে গিয়েছে। কিন্তু ১৫ বছরে তৃণমূলের নির্মম সরকার কী বদলেছে? ১৫ বছর আগে পশ্চিমবঙ্গের যে শিশু প্রথম শ্রেণিতে পড়ত, আজ সে অন্য রাজ্যে পালাতে চাইছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৫ বছরে ওরা লুট করার উপর পিএইচডি করে ফেলেছে। এই মেদিনীপুরেই বালিপাচারকারী কোটি টাকার মালিক হয়ে গিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৫ বছরে তৃণমূলের মহাজঙ্গলরাজে দাঙ্গা এবং রাজনৈতিক খুনের সংখ্যা বেড়ে গিয়েছে। অনুপ্রবেশকারীদের সাহস বেড়ে গিয়েছে। মা-বোনেদের উপর অত্যাচার সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছে। তৃণমূলের হাত থেকে মা-ও বাঁচেনি, মাটিও বাঁচেনি। মানুষ তো ত্রাহি ত্রাহি করছে। মোদী বলেন, আমি আপনাদের ভরসা দিচ্ছি, বিজেপির সরকার ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’ করবে। কিন্তু লুটেরাদের কাছ থেকে পুরো হিসাব নেবে। বেছে বেছে হিসাব নেবে।
প্রধানমন্ত্রী মোদী পশ্চিমবঙ্গের যুবকদের আশ্বাস দিয়ে বলেন, বিজেপি সরকার ভাতাও দেবে, রোজগার মেলার মাধ্যমে নিয়োগপত্রও দেবে। কিন্তু যারা হাজার হাজার যুবকের সঙ্গে অন্যায় করেছে, তাদের বিজেপি ছাড়বে না। বেছে বেছে হিসাব নেওয়া হবে। রাজ্যের সরকারী কর্মীদের উদ্দেশে মোদী বলেন, আমি পশ্চিমবঙ্গের সকল কর্মচারীদের বলছি, আপনারা আমাদের হাত-পা, আমাদের চোখ-কান। আপনাদের শক্তি আমরা জানি। আপনাদের ভয় দেখিয়ে রাখা হয়েছে। বিজেপি সরকার এলে আপনাদের কোনও ভয় থাকবে না। আপনারা সপ্তম পে কমিশনের সুবিধাও পাবেন। কৃষকদের উদ্দেশে মোদী বলেন, আপানারা এখানে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী বেছে নিন। তার পরে প্রধানমন্ত্রী আর মুখ্যমন্ত্রী মিলে প্রত্যেক কৃষকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ‘কিষান সম্মান নিধির’ ৯ হাজার টাকা পাঠানো হবে। কৃষক-মাণ্ডিগুলি থেকেও তৃণমূলের দালালদের তাড়ানো হবে। যাতে কৃষকেরা ফসলের সঠিক দাম পেতে পারেন। মোদী বলেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার জিরামজি আইন কার্যকর করবে। এটা মোদীর গ্যারান্টি। মোদীর গ্যারান্টির অর্থ, গ্যারান্টি পূরণ হওয়ার গ্যারান্টি।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, তৃণমূল শুধু নিজের ভোটব্যাঙ্কের কথা ভাবে। অনুপ্রবেশকারীদের কথা ভাবে। বাকিদের নিয়ে ওদের কিছু যায় আসে না। তিনি বলেন, তৃণমূলের মহিলাবিরোধী চেহারাও স্পষ্ট নজরে এসেছে। দেশের মহিলাদের সংসদে এবং বিধানসভায় ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ দেওয়ার জন্য সংসদে আলোচনা হল। কিন্তু তৃণমূল মহিলাদের সংরক্ষণ দেওয়ার আইনকে পাশ হতে দেয়নি। মহিলাদের স্বপ্নের গলা টিপে দিয়েছে। তৃণমূল মনে করে এই আইন কার্যকর হয়ে গেলে, গ্রামগঞ্জ থেকে উঠে আসা মহিলারা বিধানসভায় গিয়ে তার অপকর্মের হিসাব চাইবে। মোদী বলেন, তৃণমূল মহিলাদের সংরক্ষণের বিরোধিতা করছে। কিন্তু নিজের ব্যাঙ্ক (ভোটব্যাঙ্ক)-কে ধর্মের ভিত্তিতে সংরক্ষণ দিতে শুরু করেছে। ভোটব্যাঙ্কের জন্য ধর্মের ভিত্তিতে সংরক্ষণ দেওয়ার খেলা চলছে। ওবিসিদের সংরক্ষণ ছিনিয়ে মুসলিমদের সংরক্ষণ দিতে উঠেপড়ে লেগেছে। এটা সংবিধানের হিসাবে, আদালতের হিসাবে ভুল। এর জন্য তৃণমূলকে এ বার শাস্তি পেতেই হবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌম্যজিৎ