
গুয়াহাটি, ২ এপ্রিল (হি.স.) : ‘উন্নত ও সুরক্ষিত অসম’-এর প্রতিশ্রুতি সংবলিত নির্বাচনী ইস্তাহার ‘সংকল্পপত্ৰ’ প্রকাশ করেছে আঞ্চলিকতাবাদের বাহক এনডিএ-ভুক্ত অসম গণ পরিষদ (অগপ)।
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে আজ বৃহস্পতিবার আমবাড়িতে অবস্থিত দলের সদর দফতরে অগপ নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে এই ইস্তাহার উন্মোচন করেছেন দলের উপ-সভাপতি জয়নাথ শর্মা, সাধারণ সম্পাদক কমলা কলিতা, মনোজ শইকিয়া এবং তুলারাম গগৈ। উন্নত ও সুরক্ষিত অসম গড়ার লক্ষ্যে অগপ মোট ১৮টি প্রধান সংকল্প ঘোষণা করেছে।
নির্বাচনী ইস্তাহারের মূল প্রতিশ্রুতিগুলি যথাক্রমে অসম চুক্তির প্রতিটি ধারা বাস্তবায়নের মাধ্যমে অসমের খিলঞ্জিয়া (ভূমিপুত্র) মানুষের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সাংবিধানিক সুরক্ষার মাধ্যমে খিলঞ্জিয়া জনগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতির রক্ষা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং ভূমির অধিকার কার্যকর করা।
যুব সমাজের জন্য শুধু সরকারি নয়, বেসরকারি ক্ষেত্রেও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করা। স্থানীয় সম্পদের ভিত্তিতে শিল্প স্থাপন ও ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়ানো এবং আত্মনির্ভর অসম গড়ে তোলা।
কৃষিকে রাজ্যের চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করে কৃষি ও সংশ্লিষ্ট খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে উদ্ভাবনী নীতি গ্রহণ করা।
স্থানীয় উৎপাদকদের উৎসাহ দিতে রাজ্যের উৎপাদিত পণ্যের বাজার সৃষ্টি করা। শিক্ষাক্ষেত্রের উন্নয়নের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা। স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে উন্নত পরিকাঠামো গড়ে তুলে গ্রামীণ এলাকায় সুলভ চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া। অসমের বন্যা ও ভাঙন সমস্যাকে জাতীয় সমস্যা হিসেবে ঘোষণা করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জোরদার দাবি তোলা।
অসমীয়া ভাষা ও সংস্কৃতি সহ সব স্থানীয় ভাষা ও সংস্কৃতির উন্নয়ন। জুবিন গার্গের নামে একটি সাংস্কৃতিক গবেষণা কেন্দ্র এবং আধুনিক সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স গড়ে তোলার পরিকল্পনা।
ষষ্ঠ তফশিলভুক্ত এলাকার বাইরে বসবাসকারী জনজাতিদের সার্বিক উন্নয়নে উদ্যোগ গ্রহণ করা। খিলঞ্জিয়া সংখ্যালঘুদের উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া। চা-শ্রমিক সম্প্রদায়ের উন্নয়ন, ভূমি পাট্টা প্রদান সহ কল্যাণমূলক পদক্ষেপ অব্যাহত রাখা। পরিবেশ সংরক্ষণে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি গ্রহণ।
বয়স্ক নাগরিক ও বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের জন্য নতুন প্রকল্প চালু করা। ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়ন ও ক্রীড়া প্রতিভা বিকাশে উদ্যোগ। নতুন শিক্ষানীতির ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে প্রতিযোগিতার উপযোগী করে তোলা।
প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার করে অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা। শিল্পোন্নয়নের জন্য দ্রুত অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে উৎসাহ প্রদান করা। সরকারি জমিতে সংগঠিত কৃষিকাজের মাধ্যমে অসমকে জৈব কৃষির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা।
এছাড়া ‘ঘরে ঘরে কর্মসংস্থান’ কর্মসূচি বাস্তবায়ন, ছয় জনগোষ্ঠীর জনজাতিকরণে সমর্থন, স্থানীয়দের জন্য চাকরির সংরক্ষণ, গ্রামীণ পর্যটনের বিকাশ, কুসংস্কারমুক্ত সমাজ গঠন, বিশুদ্ধ পানীয় জল ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা, মাদকমুক্ত অসম গড়া এবং দুর্নীতিমুক্ত, স্বচ্ছ ও দায়বদ্ধ প্রশাসন প্রতিষ্ঠার কথাও ইস্তেহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস