
বাসন্তী, ২ এপ্রিল (হি. স.): তৃণমূল, বিজেপি সকলেই আইএসএফ–কে বিশেষ সম্প্রদায়ের ধর্মাবলম্বীদের দল বলে দাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। নিজের প্রচারের প্রথম দিনে বিজেপি, তৃণমূলের সেই চেষ্টাকে নস্যাৎ করে ধর্ম নিরপেক্ষতার বার্তা দিলেন বাসন্তীর আইএসএফ প্রার্থী অসিত রায়। বৃহস্পতিবার সিপিএম ও আইএসএফ কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে প্রার্থী সোনাখালী থেকে বাসন্তী চৌমাথা পর্যন্ত পায়ে হেঁটে প্রচার করেন। সেই প্রচারের মধ্যেই আইএসএফ দলের নীতি, আদর্শ ও ধর্ম নিরপেক্ষতার কথা তুলে ধরেন অসিত রায়।
তৃণমূল ও বিজেপি আগে থেকেই এই বিধানসভা কেন্দ্রে প্রচার শুরু করে দিয়েছে। কিন্তু দেরিতে হলেও আইএসএফ প্রার্থী এদিন কয়েকশো কর্মীকে সঙ্গে নিয়ে প্রচারে নামেন। রাস্তার দুপাশের পথ চলতি মানুষ, এলাকাবাসী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে প্রচার শুরু করেন। এই কেন্দ্র থেকে জয়ের ব্যাপারে তিনি আশাবাদী বলেও জানান। তৃণমূলের দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও বিজেপির ধর্ম নিয়ে রাজনীতির বিরুদ্ধে লড়াই করতে তিনি নেমেছেন বলে জানান। অসিত বলেন, “বাসন্তী সুন্দরবনের পিছিয়ে পড়া এলাকা। এখানে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা থেকে শুরু করে শিক্ষা ব্যবস্থা সবই ধুঁকছে। অথচ শাসক দলের কোনও হেলদোল নেই। এলাকার মানুষ জলের জন্য হাহাকার করছে। আমরা মানুষের এই সাধারণ অথচ গুরুত্বপূর্ণ চাহিদাগুলো পূরণের জন্য লড়াইয়ের ময়দানে নেমেছি।”
এদিন সিপিএম আইএসএফ প্রার্থীর সঙ্গে থাকলেও দেখা মেলেনি আরএসপি নেতা কর্মীদের। এই কেন্দ্র আইএসএফকে ছাড়তে নারাজ আরএসপি। একথা ফ্রন্ট চেয়ারম্যানকে সাফ জানিয়েও দিয়েছেন জেলা আরএসপি নেতৃত্ব। পাশাপাশি নিজেরা বাসন্তী ব্লকের বিভিন্ন প্রান্তে প্রচার শুরু করে দিয়েছেন। পেশায় আইনজীবী ও সাহিত্যিক বাসন্তীর নফরগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা সমর বিশ্বাসকে প্রার্থী ঘোষণা করে শুরু হয়েছে প্রচার। সমাজমাধ্যম থেকে শুরু করে গ্রামে গ্রামে প্রচার শুরু করেছেন আরএসপি কর্মীরা। আরএসপির দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা সম্পাদক চন্দ্রশেখর দেবনাথ বলেন, “ এই আসন কোনওভাবেই আইএসএফকে আমরা ছাড়তে পারবো না। এটা আমাদের ঘাঁটি। ১৯৭৭ সাল থেকে ২০১১ বিধানসভা পর্যন্ত এই আসন আমাদের দখলে ছিল। ফলে এই আসনে লড়াই আমরাই করবো।”
এ প্রসঙ্গে আইএসএফ প্রার্থী বলেন, “ এটা ওনাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার। তবে বামেদের সঙ্গে আইএসএফের জোট হয়েছে। আলোচনার ভিত্তিতে আসন সোমঝোতা হয়েছে। নিজেদের মধ্যে লড়াই করে তৃণমূল ও বিজেপিকে বাড়তি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার কোনও যুক্তি নেই।”
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / পার্সতি সাহা