বাবার বকুনি সহ্য করতে না পেরে আত্মঘাতী দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী
আগরতলা, ২ এপ্রিল (হি.স.): পড়াশোনায় মনোযোগী হতে সামান্য বকাঝকা—আর তাতেই অভিমানে চরম সিদ্ধান্ত নিল দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে আগরতলার রানিরবাজার এলাকার পূর্ব চাম্পামুড়ায়। মৃতার নাম রুমি দাস। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রুম
ফাঁসীতে আত্মঘাতী ছাত্রী


আগরতলা, ২ এপ্রিল (হি.স.): পড়াশোনায় মনোযোগী হতে সামান্য বকাঝকা—আর তাতেই অভিমানে চরম সিদ্ধান্ত নিল দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে আগরতলার রানিরবাজার এলাকার পূর্ব চাম্পামুড়ায়। মৃতার নাম রুমি দাস।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রুমি দাস ছিলেন সুধীর দাসের ছোট মেয়ে এবং পরিবারের সকলের অত্যন্ত আদরের। সম্প্রতি সে একাদশ শ্রেণি উত্তীর্ণ হয়ে দ্বাদশ শ্রেণিতে উঠেছিল। সামনে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা থাকায় তাঁর পড়াশোনা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা উদ্বিগ্ন ছিলেন তাঁর বাবা। সেই কারণেই তিনি মেয়েকে পড়াশোনায় আরও মনোযোগী হতে বলেন এবং সামান্য বকাঝকাও করেন।

অভিযোগ, এই সামান্য ঘটনাতেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে রুমি। বুধবার রাতে বাড়ির নিজ ঘরে সে আত্মঘাতী হয় বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রথমে তাঁর দাদু ঘরে গিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁকে দেখতে পান। সঙ্গে সঙ্গে তিনি চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁকে নামিয়ে আনা হয়।

ঘটনার সময় রুমির মা ও দিদা বাড়ির পাশেই একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। খবর পেয়ে তাঁরা দ্রুত বাড়িতে ফিরে আসেন। এরপর পুলিশকে খবর দেওয়া হলে তাঁরা ঘটনাস্থলে এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে ময়নাতদন্তের জন্য মৃতদেহ জিবিপি হাসপাতালে পাঠানো হয়।

বৃহস্পতিবার জিবি হাসপাতাল চত্বরে শোকস্তব্ধ বাবা সুধীর দাস জানান, তিনি কেবল মেয়ের ভালোর জন্যই পড়াশোনায় মন দিতে বলেছিলেন। এমন পরিণতি হবে, তা কখনও ভাবেননি।

এই ঘটনায় রানিরবাজারের পূর্ব চাম্পামুড়া এলাকাজুড়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রতিবেশীরা জানান, রুমি ছিল শান্ত ও মেধাবী ছাত্রী। তাঁর অকাল মৃত্যুতে এলাকাবাসী হতবাক।

পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যার ঘটনা বলে মনে করা হলেও, সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande