
আগরতলা, ২ এপ্রিল (হি.স.): ত্রিপুরায় আসন্ন ধর্মনগর বিধানসভা উপনির্বাচন এবং ত্রিপুরা ট্রাইবাল এরিয়াস অটোনমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল (টিটিএএডিসি) নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। ইভিএম ব্যবহারে অনাস্থা প্রকাশ করে ব্যালটে ভোটগ্রহণ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছে কংগ্রেস।
বৃহস্পতিবার আগরতলায় সাংবাদিক সম্মেলনে প্রদেশ কংগ্রেস মুখপাত্র প্রবীর চক্রবর্তী গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, ২০১৮ সালের পর থেকে রাজ্যের প্রতিটি নির্বাচনে প্রশাসনকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ অর্থের অপব্যবহার ঘটেছে। তাঁর কথায়, “রাজ্য সরকার নির্লজ্জভাবে অনিয়ম-বেনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছে, যা গণতন্ত্রের পক্ষে অত্যন্ত বিপজ্জনক।”
তিনি আরও দাবি করেন, সর্বদলীয় বৈঠক রাজ্য নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলেও সেখানে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের কোনও সুরাহা হয়নি। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, প্রতিটি বুথে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, ওয়েবকাস্টিং চালু করা এবং ভিভিপ্যাটসহ ইভিএম ব্যবহারের দাবি জানানো হয়। তবে এই দাবিগুলি উপেক্ষিত হয়েছে বলে অভিযোগ।
কংগ্রেসের প্রতিনিধি প্রশান্ত সেন চৌধুরী জানান, রাজ্য নির্বাচন কমিশনার নির্বাচনের আগে কোনও সর্বদলীয় বৈঠক না করেই ভোটের দিন ঘোষণা করেছেন। পরে বৈঠক হলেও সেখানে জানানো হয়, ভিভিপ্যাট ছাড়াই ইভিএমে ভোটগ্রহণ করা হবে—যা নিয়ে কংগ্রেসের আপত্তি রয়েছে। তিনি বলেন, “ইভিএম এম-২ নিয়ে আমাদের সন্দেহ রয়েছে। তাই স্বচ্ছ নির্বাচনের স্বার্থে ব্যালটে ভোটগ্রহণ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি জরুরি।”
ওই বৈঠকে বিজেপি প্রতিনিধিদের সঙ্গে কংগ্রেস নেতাদের তর্ক-বিতর্কও চরমে ওঠে, যার ফলে হইচই ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। প্রবীর চক্রবর্তী নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বিজেপির সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং বিষয়টিকে “গভীর উদ্বেগজনক” বলে মন্তব্য করেন।
এদিকে, কংগ্রেসের প্রচারে গতি আনতে আগামীকাল আগরতলায় আসছেন এলআইসিসি-র সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ সপ্তগিরি উলাকা। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শীঘ্রই কংগ্রেস তাদের নির্বাচনী ইস্তেহার প্রকাশ করবে। এছাড়াও, ৪ এপ্রিল ধর্মনগর উপনির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থীর সমর্থনে সর্বভারতীয় নেতৃত্ব প্রচারে অংশ নেবেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ