নেপালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সম্পত্তি বিতর্কে তোলপাড় রাজনীতি, প্রধানমন্ত্রীর লিখিত জবাব তলব; ইস্তফার দাবিতে সরব দল-অপক্ষ, সুপ্রিম কোর্টে রিট
কাঠমান্ডু, ২১ এপ্রিল (হি.স.): নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুংয়ের সম্পত্তি বিবরণী ঘিরে বিতর্ক তীব্র আকার নিয়েছে। সম্পত্তি ঘোষণায় অসঙ্গতি, সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন এবং গ্রেফতার ব্যবসায়ী দীপক ভট্টের সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগে তাঁকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপ
নেপালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সম্পত্তি বিতর্কে তোলপাড় রাজনীতি, প্রধানমন্ত্রীর লিখিত জবাব তলব; ইস্তফার দাবিতে সরব দল-অপক্ষ, সুপ্রিম কোর্টে রিট


কাঠমান্ডু, ২১ এপ্রিল (হি.স.): নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুংয়ের সম্পত্তি বিবরণী ঘিরে বিতর্ক তীব্র আকার নিয়েছে। সম্পত্তি ঘোষণায় অসঙ্গতি, সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন এবং গ্রেফতার ব্যবসায়ী দীপক ভট্টের সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগে তাঁকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপ ক্রমশ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চেয়েছেন।

মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, বিগত কয়েক দিন ধরে গণমাধ্যমে গুরুংয়ের সম্পত্তি বিবরণী ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে ওঠা প্রশ্নকে গুরুত্ব দিয়েই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দফতরও নিশ্চিত করেছে যে, তিনি ইতিমধ্যেই লিখিত জবাব জমা দিয়েছেন। যদিও তিনি আগেই দাবি করেছিলেন, ঋণ নিয়ে শেয়ার কেনা হয়েছে, তবে সেই ব্যাখ্যা ঘিরে এখনও একাধিক প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। পরবর্তীতে তিনি দু’টি সংস্থার নাম উল্লেখ করেন, যেগুলির কথা আগে সম্পত্তি বিবরণীতে ছিল না।

এদিকে, এই ইস্যুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ইস্তফার দাবিতে সরব হয়েছে শাসক ও বিরোধী—দু’পক্ষই। শাসক দল ন্যাশনাল ইন্ডিপেনডেন্ট পার্টি (আরএসপি)-র নেতা তথা সাংসদ দীপক বোহরা সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, স্বচ্ছতা ও নৈতিকতার প্রশ্নে গুরুংয়ের পদত্যাগ করা উচিত। তাঁর মতে, “যদি নৈতিকতার উদাহরণ স্থাপন করতে চান, তবে অবিলম্বে পদত্যাগ করে তদন্তে সহযোগিতা করা উচিত।”

বিরোধী শিবিরও একই সুরে কথা বলেছে। শ্রম সংস্কৃতি পার্টির প্রধান হর্ক সাম্পাং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ইস্তফার দাবি তুলেছেন। পাশাপাশি ‘জেন-জি’ আন্দোলনের নেতারাও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে গুরুংয়ের পদত্যাগের পক্ষে মত দিয়েছেন। আন্দোলনের নেতা রবিকিরণ হামাল বলেন, নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে হলে পদত্যাগ জরুরি। একই মত প্রকাশ করেছেন আন্দোলনের কর্মী ভাবনা রাউতও। তাঁর মতে,স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অধীনে থাকা পুলিশ দিয়েই তদন্ত হলে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হতে পারে।

অন্যদিকে, আন্দোলনের নেত্রী তনুজা পাণ্ডে অভিযোগ করেছেন, ব্যক্তিগত বিতর্কে আন্দোলনের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, “পদে থেকে নিজের বিরুদ্ধে তদন্ত করানো ঠিক নয়।” একইভাবে রক্ষা বমও বলেছেন, শুধুমাত্র সামাজিক মাধ্যমে ব্যাখ্যা না দিয়ে তদন্তকারী সংস্থার কাছে জবাব দেওয়া উচিত।

উল্লেখ্য, গুরুংয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ—তিনি জেন-জি আন্দোলনের পর কেনা শেয়ার সম্পত্তি বিবরণীতে উল্লেখ করেননি এবং গ্রেফতার ব্যবসায়ী দীপক ভট্টের সঙ্গে তাঁর আর্থিক সম্পর্ক রয়েছে। যদিও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জানিয়েছেন, তিনি কোনও ভুল করেননি এবং দল ও তদন্তের সমস্ত নির্দেশ মেনে চলবেন।

এদিকে, একই প্রেক্ষাপটে নেপালের সুপ্রিম কোর্টে আরএসপি প্রধান রবি লামিছানে-র সাংসদ পদ স্থগিত করার দাবিতে একটি রিট দায়ের হয়েছে। আবেদনকারীদের দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং মামলা বিচারাধীন থাকায় তিনি সাংসদ হিসেবে কাজ করতে পারেন না। যদিও তিন দিন আগে দায়ের হওয়া রিট এখনও আদালতে নথিভুক্ত হয়নি এবং বিষয়টি উচ্চ পর্যায়ের বিবেচনায় রাখা হয়েছে। এই মামলার শুনানি আগামী বৃহস্পতিবার নির্ধারিত রয়েছে।

সব মিলিয়ে, নেপালের রাজনীতিতে এই মুহূর্তে সম্পত্তি বিতর্ক ঘিরে উত্তেজনা চরমে, যা আগামী দিনে আরও তীব্র হতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande