চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘সরস্বতী জ্ঞান মন্দির’-এর শুভ উদ্বোধন ও শ্রীবিগ্রহ প্রতিষ্ঠা
।। রাজীব দে ।। চট্টগ্রাম, ২১ এপ্রিল (হি.স.) : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকায় প্রায় ২০ হাজার বর্গফুট জমির ওপর নির্মিত ‘সরস্বতী জ্ঞান মন্দির’-এর শুভ দ্বারোদঘাটন সম্পন্ন হয়েছে। পবিত্র অক্ষয় তৃতীয়া তিথিতে আট বছর ধরে চলা নির্মাণকাজ শেষে ম
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘সরস্বতী জ্ঞান মন্দির’-এর দ্বারোদঘাটন ও শ্রীবিগ্রহ প্রতিষ্ঠা


প্ৰতিবেদকের সঙ্গে কথা বলছেন অদুলকান্তি চৌধুরী ও সহধর্মিণী অনিতা চৌধুরী


।। রাজীব দে ।।

চট্টগ্রাম, ২১ এপ্রিল (হি.স.) : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকায় প্রায় ২০ হাজার বর্গফুট জমির ওপর নির্মিত ‘সরস্বতী জ্ঞান মন্দির’-এর শুভ দ্বারোদঘাটন সম্পন্ন হয়েছে। পবিত্র অক্ষয় তৃতীয়া তিথিতে আট বছর ধরে চলা নির্মাণকাজ শেষে মন্দিরটি উৎসর্গ এবং শ্রীবিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে স্থায়ী উপাসনালয়ের অভাবে সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় উৎসব আয়োজনে নানা প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হতো। এ অবস্থায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত ‘সনাতন ধর্ম পরিষদ’-এর দাবির প্রেক্ষিতে ২০১১ সালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মন্দির নির্মাণের জন্য জমি বরাদ্দ করে। দেশ-বিদেশের প্রাক্তন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও শুভানুধ্যায়ীদের ধাপে ধাপে প্রেরিত অনুদানে গড়ে ওঠে এই মন্দির কমপ্লেক্স। প্রবাসী ব্যবসায়ী অদুলকান্তি চৌধুরীর বিশেষ আর্থিক সহায়তায় ২০১৯ সাল থেকে মূল মন্দিরের নির্মাণকাজ পূর্ণ গতি পায়।

মন্দিরের নকশা ও প্রকৌশল সহায়তা দিয়েছে ‘এস্ট্রো’ এবং ইন্টিরিয়র ও কারিগরি সহায়তা দিয়েছে ‘দ্য-অ্যাড কমিউনিকেশন’। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত মন্দির নির্মাণ ও পরিচালনা কমিটি সার্বিক কাজ তত্ত্বাবধান করেছে।

উদ্বোধন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. তাপসী ঘোষ রায় বলেন, ‘জ্ঞানই শক্তি, জ্ঞানই মুক্তি’ এই দর্শনকে সামনে রেখে মন্দিরটি শুধু পূজা-উপাসনার স্থান নয়, বরং আধ্যাত্মিক চর্চা ও মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

মন্দির কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. অঞ্জনকুমার চৌধুরী ভবিষ্যতের পরিকল্পনা জানিয়ে বলেন, এখানে বৈদিক গ্রন্থাগার, সেমিনার অডিটোরিয়াম, ধ্যানকেন্দ্র এবং সনাতনী শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক সুবিধা নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রধান পৃষ্ঠপোষক অদুলকান্তি চৌধুরী তাঁর অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের অভাববোধ থেকে এই উদ্যোগে যুক্ত হয়েছি। ভবিষ্যতে দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক ভবন নির্মাণে আমার সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আল-ফোরকান বলেন, এই মন্দির প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মীয় সম্প্রীতির এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। বিদ্যাদেবীর এই মন্দির শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশের সাথে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।

পূজা-পার্বণের পাশাপাশি মন্দির কমিটির মাধ্যমে একটি কল্যাণ তহবিল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হবে, যা দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সহায়তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ‘সরস্বতী জ্ঞান মন্দির’ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়-এর সনাতনী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন পূরণ হলো।

সরস্বতী জ্ঞান মন্দির নির্মাণে এগিয়ে আসা প্রসঙ্গে অদুলকান্তি চৌধুরী বলেন, এমন শুভ কাজে অংশগ্রহণ করতে পারা সৌভাগ্যের। সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের সনাতন ধর্মাবলম্বীরা মন্দিরের অভাবে ধর্মচর্চায় অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন, এটা জেনে মন্দির নির্মাণে এগিয়ে এসেছি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে জমি চেয়েছি, যেখানে তিন শতাধিক গরিব শিক্ষার্থীর জন্য পাঁচ তলা ভবন নির্মাণের ইচ্ছে আছে। পাশাপাশি ভর্তি পরীক্ষা দিতে আসা শিক্ষার্থী ও তাঁদের অভিভাবকরা যাতে সেখানে থাকতে পারেন, সেই ব্যবস্থাও গড়ে দিতে চাই।

হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস




 

 rajesh pande