
কলকাতা, ৪ এপ্রিল (হি. স.) : খেলো ইন্ডিয়া ট্রাইবাল গেমসেই প্রথমবার জিতে ইতিহাস গড়ল বাংলা। বাংলার ফুটবল নিয়ামক সংস্থা আইএফএ শীঘ্রই খেলোয়াড়দের সংবর্ধনা দিতে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করার ভাবনাচিন্তায় ব্রত নিয়েছেন। ওই প্রতিযোগিতায় দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে স্বর্ণপদক জিতল বাংলার দল। উল্লেখ্য, শনিবার সকালে ছত্তিশগড়ের রায়পুরের কোটায় স্বামী বিবেকানন্দ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে স্বাগতিক ছত্তিশগড়কে ১-০ গোলে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলার ফুটবলাররা। পুরো খেলায় ম্যাচের একমাত্র এবং জয়সূচক গোলটি প্রথমার্ধের শেষ লগ্নে। ৪৪ মিনিটে পেনাল্টি থেকে নিখুঁত শটে বল জালে জড়ান চাকু মান্ডি। সেই গোলটি শেষ পর্যন্ত পার্থক্য গড়ে দেয় দুই দলের মধ্যে এবং ইতিহাস গড়ল।
দলের এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত বাংলার কোচ রঞ্জন ভট্টাচার্য। ম্যাচ শেষেই তিনি এদিন স্পষ্টভাবেই জানান, - “এই জয় সম্পূর্ণভাবে ছেলেদের কঠোর পরিশ্রমের ফল। ওরা মাঠে নিজেদের সেরাটা দিয়েছে।” এর পাশাপাশি, দলকে সর্বতোভাবে সহায়তা করার জন্য আইএফএ সভাপতি অজিত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সচিব অনির্বাণ দত্তকে কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। তাঁর মতে, এই জয় বাংলার ফুটবলের ঐতিহ্য ও শ্রেষ্ঠত্বকে আবারও সামনে হাজির করেছে।
এই প্রেক্ষাপটে দলের অধিনায়ক অমিত টুডুও সাফল্যে খুশি। তিনি বলেন, - দলের ঐক্য এই জয়ের মূল চাবিকাঠি। কোচের প্রশংসা করে তাঁর মন্তব্য, - “উনি গোটা দলকে একসূত্রে বেঁধে রাখতে পেরেছেন, সেটাই আমাদের শক্তি।”
অন্যদিকে, ম্যাচের নায়ক চাকু মান্ডি স্বাভাবিকভাবেই আবেগাপ্লুত। প্রসঙ্গতঃ কিছুদিন আগেই সন্তোষ ট্রফিতে পেনাল্টি মিস করার আক্ষেপ ছিল তাঁর মনে। সেই দুঃখ ভুলিয়ে দিল এই জয়সূচক গোল। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, “দলকে জেতাতে পেরে খুব ভালো লাগছে। আগের বারের ভুলটা এবার শুধরে নিতে পেরেছি।”
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল যে, এই প্রতিযোগিতায় শুরু থেকেই দাপট দেখিয়েছে বাংলা। লিগ পর্ব থেকে নকআউট - পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই অপরাজিত থেকে শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হয়ে সোনার মুকুট মাথায় তুলল বাংলা। খেলো ইন্ডিয়া ট্রাইবাল গেমসের আসরে প্রথমবার আসরেই নেমে বাজিমাত। এবং এই সাফল্যের জন্য নিঃসন্দেহে বাংলার ফুটবলের জন্য এক বড় প্রাপ্তি।
হিন্দুস্থান সমাচার / শুভদ্যুতি দত্ত