পঞ্চভূতের ভারসাম্যই পরিবেশের প্রকৃত রক্ষক: দ্রৌপদী মুর্মু
নয়াদিল্লি, ৯ এপ্রিল (হি.স.) : পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য প্রত্যেক নাগরিকের ‘পঞ্চভূতে’র পবিত্র ভারসাম্য বোঝা অত্যন্ত জরুরি। বৃহস্পতিবার এমনটাই বললেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু । এদিন রাষ্ট্রপতি ভবনে রাষ্ট্রপতির হাতে ‘বৃক্ষ বেদাম ২.০’ নামক একটি বই তুলে
রাষ্ট্রপতি


নয়াদিল্লি, ৯ এপ্রিল (হি.স.) : পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য প্রত্যেক নাগরিকের ‘পঞ্চভূতে’র পবিত্র ভারসাম্য বোঝা অত্যন্ত জরুরি। বৃহস্পতিবার এমনটাই বললেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ।

এদিন রাষ্ট্রপতি ভবনে রাষ্ট্রপতির হাতে ‘বৃক্ষ বেদাম ২.০’ নামক একটি বই তুলে দেওয়া হয়। বইটির লেখক প্রাক্তন সাংসদ তথা ‘গ্রিন ইন্ডিয়া চ্যালেঞ্জ’-এর প্রতিষ্ঠাতা জোগিনপল্লী সন্তোষ কুমার। ভারতের প্রাচীন পরিবেশগত চেতনা এবং আধুনিক সবুজ আন্দোলনের মেলবন্ধনের প্রতীক হিসেবে এই অনুষ্ঠানটি পালিত হয়। বইটির মূল উদ্দেশ্য হলো— ভারতের প্রাচীন বেদ-উপনিষদ ঐতিহ্যের পরিবেশগত জ্ঞান যে আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক এবং বর্তমান পরিবেশগত সমস্যার সমাধানে কার্যকর, তা তুলে ধরা। রাষ্ট্রপতি বর্তমান সময়কে ‘অমৃত কাল’ এবং ‘আপদ কাল’ (সংকটের সময়)— উভয় হিসেবেই অভিহিত করেছেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, মানুষের লোভ এবং অতিরিক্ত ভোগের কারণে আজ সমাজ প্রকৃতি থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। ফলে আকাশ, বায়ু, অগ্নি, জল এবং পৃথিবী— এই ‘পঞ্চভূতে’র পবিত্র ভারসাম্যের কথা আমরা ভুলে যাচ্ছি। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, প্রতিটি মানুষ এই পঞ্চভূতের মাধ্যমেই তৈরি এবং শেষ পর্যন্ত এর মধ্যেই বিলীন হয়। তাই প্রকৃতির সঙ্গে আমাদের এই গভীর সম্পর্ক বোঝা এবং ‘আধ্যাত্মিক বুদ্ধিমত্তা’র মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণকে জীবনের অংশ করে তোলা প্রয়োজন।

বইটিতে উল্লিখিত ‘Life flourishes only when the earth is green’ (পৃথিবীতে সবুজায়নই জীবনের ভিত্তি) পঙক্তিটির উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন যে, ‘গ্রিন ইন্ডিয়া চ্যালেঞ্জ’ দেশজুড়ে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। গত আট বছরে এই অভিযানের মাধ্যমে প্রায় ১৯.৬ কোটি চারা রোপণ করা হয়েছে, যা এক নজিরবিহীন সাফল্য। তিনি প্রত্যেক নাগরিককে প্রকৃতির সঙ্গে তাঁদের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক অনুধাবন করে জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও আগামী প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান।

এই অভিযানের অধীনে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে— তেলেঙ্গানার সংরক্ষিত বনাঞ্চল পুনরদ্ধার, পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবনে ২০ হাজার ম্যানগ্রোভ চারা রোপণ এবং ‘কোটি বৃক্ষার্চনা’ (এক কোটি বৃক্ষ পূজা) কর্মসূচি।

এই অনুষ্ঠানে সাংসদ কে.আর. সুরেশ রেড্ডি, ভদ্দিরাজু রবিচন্দ্র, বি. পার্থসারথি রেড্ডি, ইগনাইটিং মাইন্ডস অর্গানাইজেশনের প্রতিষ্ঠাতা এম. করুণাকর রেড্ডি, গ্রিন ইন্ডিয়া চ্যালেঞ্জের সহ-প্রতিষ্ঠাতা সঞ্জীভুলা রাঘবেন্দ্র-সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ১৭ জুলাই ‘সবুজ থাকলে তবেই সমৃদ্ধি’ বার্তার মাধ্যমে ‘গ্রিন ইন্ডিয়া চ্যালেঞ্জ’-এর যাত্রা শুরু হয়েছিল। এই অভিযানটি ২০১৫ সালে শুরু হওয়া তেলেঙ্গানা সরকারের ‘হরিতা হারাম’ কর্মসূচি দ্বারা অনুপ্রাণিত। হায়দরাবাদ থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন আজ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে শিল্পপতি, রাজনীতিবিদ ও চলচ্চিত্র জগতের তারকারাও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছেন।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande