
নয়াদিল্লি, ৯ এপ্রিল (হি.স.): অসম এবং পদুচেরি বিধানসভা নির্বাচনে এবার রেকর্ড সংখ্যক ভোট পড়েছে। বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, অসম ভোটগ্রহণের হার ৮৫.৩৮ শতাংশ এবং পদুচেরিতে ৮৯.৮৩ শতাংশ। অধিকাংশ স্থানেই ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণ ছিল। কেরালায় ভোট পড়েছে ৭৮.০৩ শতাংশ। এর পাশাপাশি তিন রাজ্যের চারটি বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনও এদিন সম্পন্ন হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, অসম এবং পদুচেরিতে এটিই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ভোটগ্রহণের রেকর্ড। এর আগে ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে অসম সর্বোচ্চ ৮৪.৬৭ শতাংশ এবং ২০১১ সালে পদুচেরিতে ৮৬.১৯ শতাংশ ভোট পড়েছিল। অসম, কেরালা এবং পদুচেরিতে এদিন সকাল ৭টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। এর সঙ্গে কর্ণাটক, নাগাল্যান্ড এবং ত্রিপুরার মোট চারটি বিধানসভা আসনে উপনির্বাচনও সম্পন্ন হয়েছে। কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া ভোটপ্রক্রিয়া মোটের ওপর শান্তিপূর্ণ ছিল।
ভোটের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, অসম পুরুষ ভোটারদের উপস্থিতির হার ৮৪.৮০ শতাংশ এবং মহিলা ভোটারদের ক্ষেত্রে তা ৮৫.৯৬ শতাংশ। পদুচেরিতে পুরুষ ভোটারদের ৮৮.০৯ শতাংশের বিপরীতে ৯১.৩৩ শতাংশ মহিলা ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। অন্যদিকে, উপনির্বাচনে কর্ণাটকের বাগালকোট-২৪ আসনে ৬৮.৭০ শতাংশ এবং দাবণগেরে দক্ষিণ-১০৭ আসনে ৬৮.৫৫ শতাংশ ভোট পড়েছে। নাগাল্যান্ডের কোরিডাং-২৮ আসনে ৮২.২১ শতাংশ এবং ত্রিপুরার ধর্মনগর-৫৬ আসনে ৮০.০৪ শতাংশ ভোট সংগৃহীত হয়েছে।
কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে, এবারই প্রথম অসম, কেরালা এবং পদুচেরির সমস্ত ভোটকেন্দ্রে ১০০ শতাংশ লাইভ ওয়েবকাস্টিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। মোট ২৯৬টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হয়েছে, যেখানে নথিভুক্ত ভোটারের সংখ্যা ছিল ৫.৩১ কোটিরও বেশি। ভোটগ্রহণের জন্য ৬৩,০৮৪টি বুথ তৈরি করা হয়েছিল এবং ২.৫ লক্ষেরও বেশি ভোটকর্মী নিয়োগ করা হয়েছিল।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, গত ৫০ বছরের মধ্যে এই বিপুল পরিমাণ ভোটগ্রহণ নির্বাচন কমিশনের ওপর সাধারণ মানুষের গভীর আস্থার প্রতিফলন। সংবিধানের ৩২৪ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ভোটার তালিকা প্রস্তুতি এবং নির্বাচন পরিচালনায় স্বচ্ছতা এই বিশ্বাসকে আরও সুদৃঢ় করেছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের এই নির্বাচন কেবল ভারতের জন্য নয়, বরং বিশ্ব গণতন্ত্রের কাছে একটি ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত। তিনি সকল ভোটারকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, এবার ভোটারদের সুবিধার্থে ইভিএম ব্যালট পেপারে প্রার্থীদের রঙিন ছবি, নতুন নকশার ভোটার তথ্য চিরকুট এবং দিব্যাঙ্গ ভোটারদের জন্য বিশেষ সহায়তা ব্যবস্থার মতো একাধিক নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছিল।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি